পাতা:চিঠিপত্র (প্রথম খণ্ড)-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২০৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সকলের সঙ্গেই শান্তভাবে অসম্ভব ধৈর্যের সঙ্গে কথা বলে গেলেন, কিন্তু কী কষ্টে যে আত্মসংবরণ করে তিনি ছিলেন তা আমরা বুঝতে পারছিলুম। একমাস ধরে তিনি অহোরাত্র মার সেবা করেছেন, নার্স রাখতে দেন নি, শ্রান্তিতে শরীর মন ভেঙে পড়ার কথা। তার উপর শোক । যখন সকলে চলে গেল, বাবা আমাকে ডেকে নিয়ে মায়ের সর্বদা ব্যবহৃত চটিজুতো জোড়াটি আমার হাতে দিয়ে কেবলমাত্র বললেন, ‘এটা তোর কাছে রেখে দিস, তোকে দিলুম। এই দুটি কথা বলেই নীরবে তার ঘরে চলে গেলেন । মায়ের সেই চটি এখন রবীন্দ্রসদনে সযত্বে রক্ষিত রয়েছে । মায়ের মৃত্যুর কয়েকদিন পরেই আমরা শান্তিনিকেতনে চলে এলুম। বাবা বিদ্যালয়ের কাজে আরো যেন মন ঢেলে দিলেন । কাজের ফঁাকে নিভৃতে বসে শোকদগ্ধ হৃদয়ের আবেগ প্রকাশ করলেন গুটিকতক কবিতায়— যা বই আকারে পরে বেরিয়েছিল ‘স্মরণ’ নাম দিয়ে। ‘পিতৃস্মৃতি’ (১৩৭৩), পৃ. ৭৯-৮২ ৮. মীরা দেবী মাকে আমার স্পষ্ট মনে না থাকলেও আবছায়া-মতো মনে পড়ে। খানিকটা হয়তো বাস্তবে ও কল্পনায় মিশে গেছে, যেটুকু মনে আছে তাই বলছি । মায়ের স্বনাম ছিল রান্নার। বাবা তাকে দিয়ে নানারকম রান্না ও শরবতের পরীক্ষণ করাতে ভালোবাসতেন । এক সময় বাবা শিলাইদায় পদ্মার চরে আমাদের নিয়ে ‘পদ্মা' নামে বজরাতে ছিলেন । তখন আচার্য জগদীশচন্দ্র বস্ব ও নাটোরের মহারাজা জগদিন্দ্রনাথ রায় প্রায়ই শিলাইদায় যেতেন । তারা পদ্মার উপর বোটে থাকতে খুব ভালোবাসতেন । >W 8