পাতা:চিঠিপত্র (প্রথম খণ্ড)-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২১০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


••• কবি-গৃহিণী উনত্রিশ বৎসরে দেহত্যাগ করিলেন ৭ই আগ্রহায়ণ, ১৩০৯ সনে । গৃহলক্ষ্মীর তিরোধান সত্ত্বেও কবির কাব্যলক্ষ্মীর সেবা অব্যাহত । রবীন্দ্রনাথের ঈশ্বরানুভূতির অসাধারণত্বের পরিচয় বিস্ময়মুগ্ধ করে। মহারাজকুমার ব্রজেন্দ্রকিশোর কবির কাছে শোকদন্তপ্ত হৃদয়ে চিঠি লিখিলেন । কবি-গৃহিণীর স্মৃতি র্তাহার হৃদয়ে খুবই স্পষ্ট হইয়া উঠিল— বিশেষ করিয়া, শিলাইদহে সেই কয়েক দিন অবস্থানের । তিনি বলিলেন, “কী তার স্নেহ, কী তার আপন করে নেওয়ার ব্যস্ততা— আমাদের মিথ্যা আভিজাত্যের মুখোস দূর হয়ে গেল তার স্নেহাঞ্চল আবরণে। তার অভাব আমি নিবিড়ভাবে আজ অনুভব করছি।” কবি সঙ্গে সঙ্গেই জবাব দিলেন কলিকাতা হইতে শান্তিনিকেতনে প্রত্যাবর্তন করার পর. অপিচ দ্র, বর্তমান গ্রন্থ, পৃ. ১০৫-০৬ ১২. প্রমথনাথ বিশী এই বিদ্যালয়কে পরিবারাশ্রম বলা যাইতে পারে। ছাত্রত্ন এখানকার ছাত্রদের রূপ নয়, এখানে তাহারা প্রধানত বালক বালিকা ৷ নিজেদের পরিবার ছাড়িয়া আসিয়া আশ্রম-পরিবারের অন্তর্গত হইয়া পড়িতে তাহারা যেন পারে, সে বিষয়ে তাহার দৃষ্টি ছিল। শান্তিনিকেতনের একেবারে প্রথম আমলে বিদ্যালয়টি র্তাহার নিজের পরিবারের অন্তর্গত ছিল বলিলেও হয় । তাহার পত্নী বালকদের জননী-স্থানীয়া ছিলেন ; রবীন্দ্রনাথের পুত্রদের ও অন্যান্ত ছাত্রদের মধ্যে বাসাহারে কোনো প্রভেদ ছিল না, শিক্ষকেরাও এই পরিবারভুক্ত ছিলেন। র্তাহার পত্নীবিয়োগের পরে ও ছাত্রসংখ্যাবৃদ্ধিতে এই পরিবার ভাবটি কিঞ্চিৎ শিথিল হইয়া আসে। কিন্তু এই পরিবারচৈতন্তই শান্তিনিকেতন-বিদ্যালয়ের প্রধান বৈশিষ্ট্য । Q ➢ ዓ o