পাতা:চিঠিপত্র (প্রথম খণ্ড)-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৯৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সুখ দুঃখের দিকে তাকিয়ে পতিগৃহের বন্ধনের সঙ্গে আবার পিতৃগৃহের বন্ধন চাপাবার কি আবশ্যক ? বেলা বেশ মুখে আছে সেই কথা মনে করে তোমার বিচ্ছেদ দুঃখ শাস্ত করতে চেষ্টা কোরে । আমি নিশ্চয় বলচি আমরা যদি বিবাহের পরেও ওদের দুজনকে নিয়ে ঘিরে বস্তুম তাহলে কখনই ভাল ফল হত না। দূরে আছে বলে আদরও চিরদিন সমান থাকবে । পূজার সময় যখন ওরা আসবে কিম্বা আমরা যখন ওদের ঘরে যাব তখন নিবিড় এবং নবীন আনন্দ ভোগ করব । সকল ভালবাসাতেই খানিকটা পরিমাণে বিচ্ছেদ ও স্বাতন্ত্র্য থাকা দরকার। পরস্পরকে সম্পূর্ণ আচ্ছন্ন করতে চেষ্টা করলে কখনই মঙ্গল হয় না। রাণীও যদি বিবাহ করে দূরে যায় তাহলে ওর ভালই হবে । অবশ্য প্রথম বছর দুই আমাদের কাছে থাকবে –কিন্তু তার পরে বয়স হলেই ওকে সম্পূর্ণ ভাবেই দূরে পাঠান ওর মঙ্গলের জন্যই দরকার হবে । আমাদের পরিবারের শিক্ষা রুচি অভ্যাস ভাষা ও ভাব অন্য সমস্ত বাঙালী পরিবার থেকে স্বতন্ত্ৰ— সেইজন্যই বিবাহের পর আমাদের মেয়েদের একটু দূরে যাওয়া বিশেষ দরকার। নইলে নূতন অবস্থার প্রত্যেক ছোটখাট খুঁটিনাটি অল্প অল্প পীড়ন করে স্বামীর প্রতি একান্ত শ্রদ্ধা ও নির্ভরকে শিথিল করে দিতে পারে। রাণীর যে রকম প্রকৃতি— বাপের বাড়ি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলেই ও শুধরে যাবে— আমাদের সঙ্গে নিকট যোগ থাকলে ওর পূর্ব association যাবে না। তুমি নিজের কথা ভেবে দেখনা । আমি যদি তোমাকে বিবাহ ډ وئ،