বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:চিত্রে জয়দেব ও গীতগোবিন্দ.pdf/৩৩৪

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

গীতগোবিন্দ

হ্লাদিনীর সার অংশ প্রেম তার নাম।
আনন্দ চিন্ময় রস প্রেমের ব্যাখ্যান॥
প্রেমের পরম সার মহাভাব জানি।
সেই মহাভাবরূপা রাধা-ঠাকুরাণী॥ (চৈ চঃ, মধ্যলীলা)

 এই রাধা-ভাবে তন্ময় হয়ে নীলাচলধামে গম্ভীরাকক্ষে মহাপ্রভু যে লীলা-মাধুর্য্য বিকশিত করে গিয়েছেন, তার মধ্যে মূর্ত্তি ধরে জেগে উঠেছে এই মহা-প্রেম, যে-প্রেমকে যুগ যুগ ধরে বৈষ্ণব-কবিরা অপরূপ সুরে, ছন্দে, ভাষায় রূপ দিয়ে গিয়েছেন, শ্রীমতী হলেন যার মূর্ত্ত বিগ্রহ।

 মহাপ্রভুর জীবনের এই শেষতম অধ্যায়ে দেখি, ক্রমশ ক্রমশ তিনি কি জাগরণে, কি নিদ্রায়, কি স্বপ্নে, সর্ব্বক্ষণ কৃষ্ণ-চেতনায়, কৃষ্ণ-বিরহে লীন হয়ে আছেন।

 তাঁর দুই পাশে দুই মহাভক্ত, স্বরূপ আর রামানন্দ, সর্ব্বদাই তাঁর কাছে কাছে আছেন। দিনের বেলা কোন রকমে সমুদ্র-স্নানে, জগন্নাথ-দর্শনে আর কীর্ত্তনে কেটে যায় কিন্তু যেমনি অপরাহ্ণ পড়ে আসতে থাকে, ধীরে ধীরে নামে সন্ধ্যার ছায়া, আকুলতর হয়ে ওঠে মহাপ্রভুর বিরহ। বিব্রত, আতঙ্কিত হয়ে ওঠে স্বরূপ আর রামানন্দ। সে দিব্য-উন্মাদনার মহাতরঙ্গের বেগ রোধ করবার শক্তি তাঁদের কোথায়? তাঁরা তবুও আলাপে, আলোচনায়, তাঁকে ভুলিয়ে রাখতে চেষ্টা করেন, ভাগবত পড়ে শোনান, গীতগোবিন্দ পড়ে শোনান। এইভাবে রাত্রি শেষ হয়ে আসতে থাকে। মহাপ্রভুকে শয্যায় শুইয়ে তবে তাঁরা বিশ্রাম করতে যান।

 একদিন এই রকম মধ্যরাত্রির আলাপ-আলোচনার পর মহাপ্রভুকে শয্যায় শয়ন করিয়ে স্বরূপ আর রামানন্দ বিশ্রামের জন্যে নিজেদের ঘরে গিয়েছেন। মহাপ্রভুর ঘরের দরজার কাছে শুয়ে আছে ভক্ত-ভৃত্য গোবিন্দ।

 স্বরূপ আর রামানন্দ চলে যাবার পর, ঘরের বাইরে থেকে গোবিন্দ বুঝতে পারলো মহাপ্রভু শয্যা গ্রহণ করেননি। অবিরাম নাম গান করে চলেছেন। নিদ্রাহীন চোখে ভৃত্য গোবিন্দও ঘরের বাইরে বসে সেই মধুর নাম গান শোনে। শুনতে শুনতে সে-ও তন্ময় হয়ে যায়। হঠাৎ তার চমক ভাঙ্গতেই সে বুঝতে পারলো, মহাপ্রভুর ঘর নিস্তব্ধ। হঠাৎ মহাপ্রভু নীরব হয়ে গেলেন কেন? তবে কি ঘুমিয়ে পড়েছেন? ভক্ত-ভৃত্যের মন সন্দেহে দুলে উঠলো। ধীরে দরজা খুলে গম্ভীরাকক্ষের ভেতরে উঁকি মেরে দেখে, ঘর শূন্য। গোবিন্দ আলো জ্বেলে চারিদিকে

[দু’শ ঊনআশি]