পাতা:চীন ভ্রমণ - ইন্দুমাধব মল্লিক.pdf/৭৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।



চীন সমুদ্র।

৬৯

জোরে বহিতে লাগিল; জাহাজও বেশী বেশী দুলিতে লাগিল পরে আর ডেকে থাকা গেল না। ক্যাবিনে যাইয়া শুইলাম। পরদিন প্রাতে উঠয়া দেখি, প্রকৃতির শান্তময়ী মূর্ত্তি একবারে পরিবর্ত্তিত হইয়া গিয়াছে। সমুদ্রবক্ষ অদ্য তেমন স্থির নাই, তরঙ্গমালায় পরিপূর্ণ। জাহাজ আর আগেকার মত মৃদুমন্দ দোলে না, -ভীষণ বেগে ও তরঙ্গের উপর উঠিতেছে ও পড়িতেছে। ডেকের উপর নিরুদ্বেগে বসিবার যো নাই, হাওয়ার এমনই জোর। তরঙ্গগুলি বিষম বেগে জাহাজের গায়ে আসিয়া প্রতিহত হইতেছে। সে শব্দও অতি ভয়াবহ।

 ক্রমে জাহাজ যতই উওর দিকে অগ্রসর হতে লাগিল, হাওয়ার জোর ও তুফান ততই বাড়িতে লাগিল। আরও এক দিন যাওয়ার পর দেখিলাম, আকাশ বাতাস ও সমুদ্রের অবস্থা এরূপ হইয়াছে যে, ডেকে আসা দূরে থাকুক, খাড়া হইয়া দাঁড়ান ও চলা পর্যন্ত অসম্ভব হইল। এক একটি ঢেউ পঞ্চাশ ষাট ফিট উচু। ইহার উপর জাহাজখানি উঠিতেছে ও পরক্ষণেই সজোরে পড়িতেছে।জাহাজের এপাশ হইতে ওপাশ ধৌত করিয়া ঢেউ চলিয়া যাইতেছে। ঢেউয়ে কতকগুলি আহারর জন্য রক্ষিত ভেড়া ভাসাইয়াই লইয়া গেল। জল ঢুকিবে বলিয়া কেবিনের ক্ষুদ্র জানালাও বন্ধ করা হইল। সেখানে থাকিলে গরমে ও বমির উদ্বেগে বিশেষ কষ্ট হয়। এরূপ স্থলে অনেকেই দ্বিতীয় শ্রেণীর বৈঠক-কুঠরীতে গিয়া আশ্রয় লয়। জাহাজের মধ্যস্থলে অবস্থিত বলিয়া সেই স্থানটি সর্ব্বাপেক্ষা কম দোলে। পিছনের প্রথম শ্রেণীতে সে সময়ে অবস্থিতি করা অতি কষ্টকর। তাই আজকালকার নুতন ফ্যাসানের অনেক জাহাজে প্রথম শ্রেণী মাঝেই অবস্থিত।

 সমুদ্রের এরূপ ভীষণ অবস্থায় যাহা ঘটিয়া থাকে, তাহাই ঘটিতে লাগিল। সকলেই, বিশেষ নূতন সমুদ্রযাত্রীরা সামুদ্রিক পীড়ায় কাতর হইতে লাগিল। স্ত্রীলোকেরা প্রথমে আহার ছাড়িলেন ও