পাতা:চেনা দায় - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়.pdf/৩৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

৩৬

দারোগার দপ্তর, ৮৪ম সংখ্যা।


বিশ্বাস করিয়া থাকেন। কিন্তু যে ব্যক্তি এক কথার উপর নির্ভর করিয়া, একবারে এতগুলি টাকা প্রদান করিতেছেন, তিনি আমাদিগকে কি কখনও এক কথায় বিশ্বাস করিতে পারেন? এই যে গহনাখানি আমি গ্রহণ করিলাম, তাহা একবার উত্তমরূপে যাচাইয়া দেখিব। দেখিব, তালিকার লিখিত ইহার মূল্য ঠিক কি না। যদি ঠিক হয়, তাহা হইলে আর কোন কথাই থাকিবে না। তাহা হইলে ইনি আমাদিগকে অনায়াসেই বিশ্বাস করিতে পারিবেন।

 সেই ব্যক্তি। এ উত্তম কথা। একখানি কেন, তুমি সমস্ত গহনাগুলিই লইয়া গিয়া কোন পোদ্দারের দ্বারা যাচাইয়া দেখ। যদি আমার কথা ঠিক হয়, তাহা হইলে পরে উহার মূল্য পাঠাইয়া দিও। তোমার উপর আমার কোন প্রকারে অবিশ্বাস নাই।

 বছিরুদ্দিন। আপনি ত জানেন যে, ইহা কি প্রকারের অলঙ্কার। এতগুলি অলঙ্কার লইয়া বাজারে যাচাইতে গেলে, যেরূপ বিপদ ঘটিবার সম্ভাবনা, তাহাও আপনি অনায়াসেই অনুমান করিতে পারেন। সমস্ত গহনা লইয়া আমরা বাহির হইলে হয় ত আমরাও বিপদগ্রস্ত হইয়া পড়িব, আপনারও লোক্‌সান হইবে। এই কারণ বশতঃ আমরা সমস্ত গহনা লইয়া যাইতে চাহি না; একখানিতেই আমাদিগের অভীষ্ট সিদ্ধ হইবে।

 সেই ব্যক্তি। আমার কিছুতেই আপত্তি নাই। তোমাদিগের যেরূপ অভিরুচি হয়, সেইরূপ করিতে পারেন।

 “এই বলিয়া তিনি গহনার বাক্স লইয়া সেই গৃহ হইতে বহির্গত হইয়া গেলেন। আমরাও সেই একখানিমাত্র অলঙ্কার সঙ্গে লইয়া তাঁহার বাহিরের গৃহে আসিয়া উপবেশন করিলাম।