পাতা:চেনা দায় - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়.pdf/৪৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

চেনা দায়।

৪৯


 “স্বর্ণকারও এক একখানি করিয়া তাহার সমস্তগুলিই কসিয়া দেখিলেন ও কহিলেন, “ইহার একখানিও সুবর্ণের নহে, সমস্তই পিত্তলের।”

 “স্বর্ণকারের এই কথা শুনিয়া আমার মনে যে কিরূপ ভাবের উদয় হইল, তাহা, পাঠকপাঠিকাগণ! আপনারাই অনুমান করিয়া দেখুন। আমি চতুর্দ্দিক অন্ধকার দেখিলাম, এবং কিছুক্ষণের নিমিত্ত আমি আমার বিবেচনা ও বুদ্ধি হারাইয়া ফেলিলাম। সেই সময় আমার যে কি করা কর্ত্তব্য, তাহার কিছুই স্থির করিতে না পারিয়া, সমস্ত গহনা সেই বাক্সের ভিতর পূরিয়া বাড়ীর ভিতর লইয়া গেলাম। তাহার পর ঘরের ভিতর একস্থানে উহা রাখিয়া আমি আমার বিছানার উপর গিয়া শয়ন করিলাম। স্বর্ণকারও আমার বাড়ী পরিত্যাগ করিয়া ধীরে ধীরে আপন দোকানাভিমুখে গমন করিল।

 “আমি কতক্ষণ যে আমার বিছানার উপর একরূপ অর্দ্ধঅচেতন অবস্থায় ছিলাম, তাহা জানি না। কিন্তু যখন আমার সম্পূর্ণ জ্ঞানের পুনরায় উদয় হইল, তখন দেখিলাম, আমার স্ত্রী আমার নিকট নিতান্ত বিষন্নবদনে বসিয়া আমাকে ব্যজন করিতেছে। আমার সম্পূর্ণরূপে চৈতন্যের উদয় হইলে, আমার স্ত্রী আমাকে, জিজ্ঞাসা করিলেন, “তোমার এরূপ অবস্থা হইয়াছিল কেন?

 “উত্তরে আমি কহিলাম, “কেন, তাহা আর কি বলিব? আমার জীবনের ত একরূপ শেষ হইয়াছে! কিন্তু তোমাদিগকেও একবারে পথের ভিখারী করিয়া দিয়াছি! তোমাদিগের অন্নবস্ত্রের যে সংস্থান ছিল, তাহার সমস্তই আমি নিজ বুদ্ধির দোষে নষ্ট করিয়াছি!