পাতা:চেনা দায় - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়.pdf/৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

দারোগার দপ্তর, ৮৪ম সংখ্যা।


মহিলামহলে ক্রমে তাহার পরিচয় হইতে লাগিল, অনেকেই তাহাকে বিশ্বাস করিতে লাগিলেন, অনেকে তাহার সাহায্যে অর্থাদি কর্জ্জ লইতে প্রবৃত্ত হইলেন, এবং অলঙ্কার প্রভৃতি বিক্রয়ের প্রয়োজন হইলে অনেকে তাহারই সাহায্যে সেই কার্য্য সম্পন্ন করিতে লাগিলেন।

 এইরূপে যতদিবস অতিবাহিত হইতে লাগিল, কামিনীর পশার ততই বাড়িতে লাগিল। সেই সঙ্গে সঙ্গে তাহার উপার্জ্জনও বাড়িয়া গেল। আয় বাড়িলেই ব্যয় বাড়ে, ইহা এই জগতের নিয়ম। সুতরাং কামিনীর কার্য্যও সেই নিয়মের বহিভূত হইতে পারিল না। কেন যে তাহার ব্যয় বাড়িয়া গেল, তাহার কারণ আমি পাঠিকাগণের নিকট বর্ণনা করিতে অসমর্থ। কিন্তু আয়ের সঙ্গে সঙ্গে বাস্তবিক তাহার ব্যয় অধিক হইতে লাগিল; ব্যয় বাড়িলেই অর্থেরও অধিক প্রয়োজন হইয়া পড়িল। সদুপায় অবলম্বনে এ পর্য্যন্ত কামিনী যত অর্থ উপার্জ্জন করিতেছিল, তাহাতে আর তাহার ব্যয় সঙ্কুলান হইল না। সদুপায়ের পরিবর্ত্তে অসদুপায় অবলম্বন করিয়া কামিনী এখন অর্থ সংগ্রহ করিতে প্রবৃত্ত হইল।

 পাঠকপাঠিকাগণের মধ্যে সকলেই অবগত আছেন যে, পিত্তলের গহনা এই কলিকাতা সহরের মধ্যে কিরূপ ভাবে দিন দিন প্রচলিত হইতেছে। পিত্তলের অলঙ্কার, গিল্‌টির গহনা, কেমিকেল স্বর্ণের অলঙ্কার প্রভৃতি নানাপ্রকার নামে পিত্তলের গহনা এই কলিকাতার বাজারে অহরহঃ বিক্রীত হইতেছে। মহিলাগণ সর্ব্বদা যে প্রকার সুবর্ণ অলঙ্কার ব্যবহার করিয়া থাকেন, সেই প্রকারের সমস্ত পিত্তলের গহনা আজকাল কলিকাতার বাজারে পাওয়া যায়। সেই সকল গহনা দেখিতে এই পরিষ্কার, এবং এরূপ কৌশলের