বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:জওহরলাল - নৃপেন্দ্রকৃষ্ণ চট্টোপাধ্যায় (১৯৪৮).pdf/১০১

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
জওহরলাল
৯৯

 “বাড়ী আসিয়া দেখিলাম, কমলা শয্যায় যেন মিশাইয়া গিয়াছে—অসহায় রোগদুর্ব্বল দেহ—সে যদি আমাকে ত্যাগ করিয়া এই পৃথিবী ছাড়িয়া চলিয়া যায়! মন হইতে এই ভাবনা দূর করিয়া দিতে যত চেষ্টা করি, ততই নিষ্ঠুর ভবিতব্যতার মত তাহা মনকে পাইয়া বসে। মনে পড়ে, আজ হইতে প্রায় সাড়ে আঠারো বৎসর আগে—নব-বধূর বেশে সে আমাদের বাড়ীতে আমার পাশে আসিয়া দাঁড়াইয়াছিল —একে একে দীর্ঘদিনের সব কথাই মনে পড়িতে লাগিল—

 “তখন আমার বয়স ছাব্বিশ আর কমলা সতেরো বৎসরের তন্বী বালিকা—একান্ত সরলা—জগতের ধারার সহিত তাহার বিন্দুমাত্র পরিচয় নাইআমাদের দু’জনার মধ্যে বয়সের পার্থক্য তো যথেষ্টই ছিল—কিন্তু সকলের চেয়ে বেশী পার্থক্য ছিল, আমাদের উভয়ের মানসিক গঠনের। জগতের কোন কিছুই সে জানিত না, আর আমি তখন রীতিমত সজ্ঞান। কিন্তু আমার বয়স হওয়া সত্ত্বেও মনের এক দিক থেকে আমি ছিলাম বালকেরই মত।

 “আমাকে ঘিরিয়া এই যে বনলতা পুষ্পিত হইয়া উঠিতেছে, ইহাকে সস্নেহ কোমলতায় ফুঠিয়া উঠিতে আমাকেই যে সাহায্য করিতে হইবে, সে-ধারণা তখন আমার আদৌ ছিল না। মনে পড়ে, স্বভাবতই আমরা