ধরিয়া এই আলোচনা চলে। তাহার পরে আবার প্রত্যেকে যে যাহার কারাগারে ফিরিয়া গেল।
যাতায়াত এবং পরিশ্রমের ফলে পণ্ডিত মতিলালের শরীর আবার ভাঙ্গিয়া পড়িল। কারাগারের সেই বাধ্যতামূলক জীবনের পঙ্গুতা, সেই অমোঘ সীমাবদ্ধতা, তাহার রাজ-চিত্তে তীব্র আঘাত করিত, তিনি সহ্য করিতে পারিতেন না— সহ্য অবশ্য তিনি করিতেন, কিন্তু তাহা করিতে গিয়া আত্মজ্বালা ও নিষ্পেষণে তাঁহার শরীর ও মন জ্বলিয়া যাইত।
অবশেষে তাঁহার স্বাস্থ্যের দুর্ল্লক্ষণ দেখিয়া তারত সরকার ৮ই সেপ্টেম্বর তাহাকে কারামুক্ত করিয়া দিলেন। ইহার প্রায় একমাস পরে ছয়মাস কারাগারের পর জওহরলালও মুক্ত হইলেন। কিন্তু করাগার হইতে বাহিরে পা বাড়াইয়াই তাঁহার মনে হইল, কয়-দিনের জন্যই বা এই মুক্তি!
কারাগার হইতে বাহির হইয়াই জওহরলাল স্থির করিলেন যে, অন্তত তাঁহার প্রদেশে তিনি কর-অমান্য-আন্দোলন শুরু করিয়া দিবেন। এতদিন ধরিয়া গ্রামে গ্রামে কৃষকদের মধ্যে যে প্রচারকার্য্য করা হইয়াছে, আজ সময় আসিয়াছে, তাহাদের লইয়া একটা সঙ্ঘবদ্ধ আন্দোলন গড়িয়া তুলিবার।
জওহরলাল জানিতেন, বেশীদিন তিনি জেলের বাহিরে থাকিতে পারিবেন না, তাই এই আন্দোলনের