বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:জন্ম ও মৃত্যু - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/৮৪

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
 জন্ম ও মৃত্যু
৭৮

 হীরেন বললে—এই গাঁয়েই বাড়ি তোমার বুঝি? ও-পাড়ায়? তা ছাগলের কথা কি বলছিলে? বেশ বলতে পার—

 কুমী লজ্জায় ছুটে পালাল।

 কিন্তু কুমুদিনীকে আবার কি কাজে আসতে হ’ল। হীরেনের সঙ্গে একটু একটু করে পরিচয় হয়েও গেল। দু’জন দু’জনের গুণের পরিচয় পেয়ে মুগ্ধ! দু’জনেই ভাবে এমন শ্রোতা কখনো দেখিনি। তিন দিন পরে দেখা গেল পিসিমার দাওয়ার সামনে উঠোনে দাঁড়িয়ে কুমী এবং দাওয়ায় খুঁটি হেলান দিয়ে বসে হীরেন ঘণ্টাখানেক ধরে পরস্পরের কথা শুনচে, হীরেন অনর্গল বকে যাচ্চে, কুমী শুনচে—আর কুমী যখন অনর্গল বকচে তখন হীরেন মন দিয়ে শুনচে।

 সেবার পাঁচ ছ’দিন পিসিমার বাড়ি থেকে হীরেন চলে এল।

 কুমী যাবার সময়ে দেখা করলে না ব’লে হীরেন খুব দুঃখিত হ’ল, কিন্তু হীরেন চলে যাবার পরে কুমী দু’তিন দিন মন-মরা হয়ে রইল, মুখে হাসি নেই, কথা নেই।

 বুড়ী পিসিমার প্রতি হীরেনের টানটা যেন হঠাৎ বড় বেড়ে উঠল; যে হীরেন দু’বছর তিন বছরেও অনেক চিঠিপত্র লেখা সত্ত্বেও এদিকে বড় একটা মাড়াতো না, সে ঘন ঘন পিসিমাকে দেখতে আসতে শুরু করলে।

 আজ বছর দুই আগের কথা, হীরেনকে পিসিমা বলেছিলেন—হীরু বাবা, যদি এলি তবে আমার একটা উপকার করে যা। আমার তো কেউ দেখবার লোক নেই, তোরা ছাড়া। নরসুপুরের ধরণী কামারের কাছে একগাদা টাকা পাব জমীর খাজনার দরুন। একবার গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করে টাকাটার একটা ব্যবস্থা করে আয় না বাবা?