পাতা:জয়তু নেতাজী.djvu/১২৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৮৩
গান্ধীজী ও নেতাজী

একখানি কটি-বসন,—ঐ বেশ যেমন খাঁটি বাঙালীর বেশ, ঐ মুক্তি সাধনাও তেমনই বাঙালীরই সাধনা। বাঙালীর প্রতিভাই ভারতীয় সাধনার বিচিত্র ও বহুমুখী প্রয়াসকে আত্মসাৎ করিয়া এবার যে নূতন বাণী ঘোষণা করিল, তাহাতে জীব ও ব্রহ্ম, ইহ ও পর, নিজের মোক্ষ ও পরের মুক্তি—আর্থিক ও পারমার্থিকের ভেদ রহিল না, এই মন্ত্রই স্বামী বিবেকানন্দের অপার্থিব মুক্তি পিপাসাকে পার্থিব মুক্তি-পিপসার সহিত অভিন্ন কবিয়া তুলিয়াছিল —আত্মার বন্ধন ও দেহের বন্ধন দুই-ই যে সমান, এবং দেহের বন্ধন দশাই অগ্রে মোচন করতে হইবে, এই মহাবাক্য তিনি ভারতবর্ষে সর্ব্ব প্রথম বজ্রকণ্ঠে প্রচার করিয়াছিলেন।

 জাতির মহাদুর্গতির আসন্ন অন্ধকারে এই প্রাণদ মন্ত্রই প্রচারিত হইয়াছিল, তখন কে জানিত তাহার এত প্রয়োজন ছিল। কোন দূর-দুর্লভ মুক্তি বা মোক্ষ নয়, এই জীবনেই মানুষকে তাহার স্বধর্ম্মে ও স্বাধিকারে প্রতষ্ঠিত করিবার কামনা এক বাঙালী-সন্তানকেই বেদান্তের দিব্যাচার হইতে শাক্তের বীরাচারে নামাইয়া আনিয়াছিল। ইহার কাবণ আমি পূর্ব্বে বলিয়াছি—বাঙালী ইতিহাসে ও তাহার জাতিগত সংস্কারে তাহা নিহিত আছে। যে-বস্তু কোন জাতি সত্যই পাইয়াছিল, দীর্ঘকাল ভোগ করিয়াছিল, সে-বস্তু যদি সে হারায় তবে তাহার বেদনা যতই প্রচ্ছন্ন হউক, সে কিছুতেই শান্তি পায় না; এবং লগ্ন উপস্থিত হইলেই সেই জাতিগত উৎকণ্ঠা একটা বিবেকানন্দ,