পাতা:জয়তু নেতাজী.djvu/২৯৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পরিশিষ্ট ૨ (tG: ঐ ত্রিপুরীর পর, সুভাষচত্রের সহিত গান্ধী-কংগ্রেসের ষে আর কোন সন্ধি হয় নাই,—সেই যুদ্ধই ক্রমে নিৰ্ম্মম ও কঠিন হইয়া উঠিয়াছিল বলিয়া মুভাষচন্দ্রকে দেশত্যাগ করিতে হইয়াছিল, এবং সেই বিরোধ যে শুধুই পন্থাগত বিরোধ নয়—মূলমন্ত্র বা আদর্শগত বিরোধ, ইহা কাহাকেও বুঝিবার অবকাশ দেওয়া হয় নাই । গান্ধীজির প্রতি সুভাষচন্দ্রের যে ভক্তি তাহ যে সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত, তাহার কারণও ভিন্ন—সে সংবাদ কেছ রাথে না । কিন্তু এইরূপ সাক্ষ্য-প্রমাণও নিম্প্রয়োজন ; সুভাষচন্দ্র যে প্রথম হইতেই গান্ধীনীতির বিরোধী ছিলেন, এবং শেষে, কেবল ব্রিটিশ গবর্ণমেণ্টই নয়, ঐ গান্ধী-কংগ্রেসও তাহার প্রতিপক্ষ হইয়া দাড়াইয়াছিল, একথা যাহারা বুঝে না বা স্বীকার করে না, তাহারা সুভাষচন্দ্র সম্বন্ধে কোন কথাই বলিবার যোগ্য নহে । কারণ, যাহারা সুভাষচঞ্জের ঐরূপ পরিচয় দেয় তাহারা তাহার সত্যটাকেই মিথ্যা করিয়া তোলে ; গান্ধীবাদ ও গান্ধী-কংগ্রেসেব প্রতি যাহাদের আস্তরিক আস্থা আছে, তাহার। সুভাষচন্দ্রের প্রতি কপট শ্রদ্ধাই নিবেদন করিতে পারে । যাহার। তাহার সেই মন্ত্র ও সেই পন্থাকে ভ্রাত্ত ও অশুচি আখ্যা দিয়া, তা হার ত্যাগ ও বীরত্বের প্রশংসা করে— তাহারা কেবল দায়ে পড়িয়াই ঐটুকু স্বীকার করে, সত্যকার শ্রদ্ধ। তাহাদের নাই । কারণ, সুভাষচন্দ্র কেবল একটা ব্যক্তি নয়, কোন একটা মতের প্রচারক মাত্র নহেন.–র্তাহার সমগ্র জীবন, তাহার দেহ, মল এবং আত্মা—সকলই একটা অখণ্ড সত্যের পূর্ণাঙ্গ অভিব্যক্তি ; সত্য বলিয়াই তাহাকে খণ্ডিত করা যায় না । ঐক্লপ পৃথক করিয়া দেখিলে সেই পুরুষকে অপমাণ করাই হয়।