পাতা:জয়তু নেতাজী.djvu/৬১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


স্বামীজী ও নেতাজী ૨S) একরূপে ও আর এক মাত্রায় এই বেদনা জাগিয়াছিল, তাহার সেই বেদনাও কেহ বুঝে নাই । তিনি ছিলেন কবি, সেই বেদনাকে তিনি তাহার হৃদয়স্ক্রত শোণিতধারায় লেখনীমুখে মুক্তি দিয়াছিলেন। বাঙালী তাহার রস আস্বাদন করিয়াছিল— সে বেদন বুঝে নাই। আমি বঙ্কিমচন্দ্রের কথা বলিতেছি ; বঙ্কিমচন্দ্র ধুয়ার ছলনা করিয়া কাদিয়াছিলেন, সে-কান্না তখন কেহ বিশ্বাস করে নাই। স্বামীজীর বেদনা আরও গভীর, আরও বাস্তব তাতার কারণ, তাহার দৃষ্টি–উদ্ধেও যতদূর, নিম্নেও ততদূর প্রসারিত ছিল ; তিনি মানবাত্মার মুক্তিকেও যেমন, তাহার বন্ধনকেও তেমনি আত্মগোচর করিয়াছিলেন। এজন্য সেই বন্ধন তাহার যেমন অসহ্য হইয়াছিল এমন আর কাহারও হয় নাই । কোন দেশের কোন সমাজে তিনি মানুষের চরম দুৰ্গতিকে প্রত্যক্ষ করিয়াছিলেন । পৃথিবীর আর সকল দেশে তিনি মানবাত্মার মহিমা ঘোষণা করিতেন, কিন্তু নিজের দেশে আসিয়া তিনি নিৰ্ব্বাক হইয়। যাইতেন, অশ্রুবাম্পে কণ্ঠ রুদ্ধ হইয়া যাইত। যেন ভারতের অভিশপ্ত দেহে ভারতেরই সেই গৰ্ব্বোদ্ধত আত্মা—সেই "বেদান্তকৃৎ বেদবিদেব চাহম”—আত্তনাদ করিয়া উঠিত,সৰ্ব্বত্যাগী সন্ন্যাসী-ভারত যোগাসনে স্থিব থাকিতে পারিক্ত না । কিন্তু স্বামীজীর সে যাতন রোদনরবে উচ্ছ্বসিত হয় নাই ; সেই অশ্রুকেও নিরুদ্ধ করিয়া, সেই বিষকে কণ্ঠে ধারণ করিয়া, সন্ন্যাসী বিবেকানন্দ এই মৃতকল্প জাতির শিয়রে জাগিয়া রহিলেন, এবং তাহার বক্ষে ও বাহুতে বলাধান করিবার জন্ত, কর্ণে