পাতা:জয়তু নেতাজী.djvu/৮৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


স্বামীজী ও নেতাজী 85 তাহার সম্বন্ধে অক্ষত্র বলিব ; কিন্তু বৰ্ত্তমান প্রসঙ্গে উহার একটি বড়ই অর্থপূর্ণ। লেখক বলিতেছেন, আজাদ-হিন্দ-গভর্ণমেন্টের সর্বময়-কর্তৃত্ব-ভার গ্রহণ করার উপলক্ষ্যে, বিপুল জন-মণ্ডলীর সম্মুখে দণ্ডায়মান হইয়া নেতাজী যখন মাতৃভূমির উদ্ধারসাধনের সংকল্প বা শপথ-বাণী পাঠ করিতেছিলেন, তখন সেই পাঠের মধ্যে যেস্থানে ত্রিশকোট ভারতবাসীর শৃঙ্খল-মোচন ও অবর্ণনীয় তুর্দশা ও দারিদ্র্য নিবারণেব কথা ছিল, সেইখানে আসিয়া তাহার কণ্ঠ সহসা রুদ্ধ হইয়া গেল এবং সারাদেহ পাথরের মত কঠিন ও নিম্পদ হইয়া উঠিল—একেবারে বাহজ্ঞানহীন অবস্থা ! প্রায অৰ্দ্ধঘণ্টাকাল তিনি এই অবস্থায় দাড়াইয়া বহিলেন ! এই যে অলৌকিক অবস্থা—ইহার মূলে ছিল কোন অনুভূতি ? স্বামীজীব সেই অনুভূতিব তীব্রতম রূপ ইহাই । আব ও প্রমাণ আছে । আমেরিকা হইতে প্রত্যাগমনের পর স্বামীজী মাদ্রাজের বক্তৃতায় দেশবাসীকে সম্বোধন করিয়া যাহা বলিয়াছিলেন তাহাতে এই কথাগুলি ছিল— "তোমাদের প্রাণে কি একবারও ইহা জাগে যে, এই দেশের কোটি কোটি নর-নারী কতকাল ধরিয়া, ঘৃণিত পশুর মত চরম দারিদ্র্য ও চরম দুৰ্দ্দশা ভোগ করিতেছে ? সে চিন্তা কি তোমাদিগকে অস্থির করিয়া তোলে—আহার-নিদ্রা ত্যাগ করায় ? দেশেৰ এই দুৰ্গতি-মোচনের জষ্ঠ তোমরকেছ কি নাম-ধাম, ধন-জন, পুত্র-পরিবার, এমন কি, নিঞ্জের দেহের প্রতিও মমতা ত্যাগ করিতে পার ?...এই জীবন্মত অভাগাদিগকে উদ্ধার করিবার কোন উপায়, কোন পন্থা কি তোমবা স্থির করিয়াছ ?