বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:জাতিভেদ - শিবনাথ শাস্ত্রী.pdf/১৬

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১৪
জাতিভেদ।

সংস্থাপন করিয়াছেন। সেখানে আদিম অধিবাসিদিগের কি দশা হইয়াছে! তাহাদের মধ্যে যাহারা অধিক শান্তিপ্রিয় তাহারা জেতৃগণের দাসত্ব স্বীকার করিয়া জেতাদিগের গ্রাম ও জনপদ প্রভৃতিতে আশ্রয় প্রাপ্ত হইয়াছে; আর যাহারা স্বাধীনতাকে প্রিয়জ্ঞান করিয়াছে তাহারা জন-সঞ্চাররহিত বিজন অরণ্যে বা দুর্লঙ্ঘ্য আণ্ডিসগিরির নিভৃত উপত্যকা ও অধিত্যকাতে আশ্রয় লইয়া আছে। ভারতবর্ষেও এই ব্যাপার ঘটিয়াছিল, যখন আর্য্যেরা সপ্তনদীর তীরবর্ত্তী প্রদেশে পদার্পণ করিলেন, তখন এদেশের আদিম অধিবাসিগণের সহিত তাঁহাদিগের ঘোরতর সংগ্রাম উপস্থিত হইল। সেই সংগ্রামে তাঁহারা জয়লাভ করিলেন। এই জয়লাভের পর তাঁহাদের প্রভুত্ব ও রাজত্ব প্রতিষ্ঠিত হইল। আদিম অধিবাসীগণের কিয়দংশ তাঁহাদের দাসত্ব স্বীকার করিল অপরাংশ পর্ব্বত ও অরণ্যাদিতে আশ্রয় লইয়া নিরন্তর তাঁহাদের উপরে উপদ্রব করিতে আরম্ভ করিল। যাহারা দাসত্ব স্বীকার করিল তাহারা দাস, ও যাহারা উপদ্রবকারী হইয়া দাঁড়াইল, তাহারা “দস্যু” নামে পরিচিত হইল। কিন্তু উভয়ে এক জাতির লোক। ইহারাই ভবিষ্যতের শূদ্র।

 আপনারা দেখিলেন কিরূপে শূদ্র জাতির সৃষ্টি হইল। প্রাচীনকালে সকল দেশেই এই প্রথা ছিল যে যাহারা যুদ্ধক্ষেত্রে বন্দী হইত, কিংবা যাহারা রণে পরাজিত হইয়া জেতাদিগের শরণাপন্ন হইত, তাহারা ক্রীতদাস বলিয়া