বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:জাতিভেদ - শিবনাথ শাস্ত্রী.pdf/২৬

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
২৪
জাতিভেদ।

যাহার যে বিদ্যা ছিল তাহা শৈশব অবস্থা হইতেই নিজ বংশীয় বালকদিগকে শিক্ষা দেওয়াই স্বাভাবিক। মানুষ যে বিষয়ে প্রতিষ্ঠা বা গৌরব লাভ করে তাহা নিজ বংশে . রক্ষা করিবার ইচ্ছা স্বতঃই উদিত হয়। এই সকল কারণেই দেখিতে পাই এ দেশে সকল প্রকার বিদ্যাই কৌলিক হইয়া যায়। এখানে নৈয়ায়িকের ছেলে নৈয়ায়িক, স্মার্ত্তের ছেলে স্মার্ত্ত, দেওয়ানের ছেলে দেওয়ান, বৈদ্যের ছেলে বৈদ্য। যিনি যখন যে বিষয়ে কৃতিত্ব লাভ করিয়াছেন তিনিই তাহা নিজ বংশধরদিগকে শিক্ষা দিয়া গিয়াছেন।

 আপনারা এই বিষয়টী স্মরণ রাখিলেই কিরূপে বর্ত্তমান জাতিভেদ প্রথার সৃষ্টি হইল, তাহা বুঝিতে পারিবেন। যাঁহারা সশস্ত্র হইয়া দেশ রক্ষাতে নিযুক্ত হইলেন, তাঁহারা যুদ্ধ বিদ্যাতে যে নিপুণতা লাভ করিলেন, তাহা তাঁহাদের বংশ-পরম্পরাতে থাকিল—যাঁহারা বেদমন্ত্র সকল রক্ষা ও শিক্ষা করিতে লাগিলেন সেই কার্য্য তাঁহাদেরও কৌলিক কার্য্য হইল—যাঁহারা কৃষি ও বাণিজ্যাদিতে প্রবৃত্ত হইলেন, তাঁহারাও আপনাপন সন্তানদিগকে উক্ত বিষয়ে শিক্ষা দিতে লাগিলেন। এখন কি পাঠকদিগকে দেখাইয়া দেওয়া আবশ্যক যে, যে বিদ্যা এ প্রকার কৌলিক হয়, অর্থাৎ যেটী বংশ-মর্য্যাদার একটী অঙ্গ-স্বরূপ হয়; লোকে সর্ব্বদাই যত্নপূর্ব্বক তাহাকে রক্ষা করিয়া থাকে, ও তদুপরি অপরকে