বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:জাতিভেদ - শিবনাথ শাস্ত্রী.pdf/৩৩

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
জাতিভেদ।
৩১

 এইরূপে প্রাচীন আর্য্য সমাজে ব্রাহ্মণদিগের শক্তি ও প্রতাপ যত নিরঙ্কুশ হইতে লাগিল ততই অপরাপর জাতি হীন দশা প্রাপ্ত হইতে লাগিল। এমন কি রাজগণও নাম মাত্র রাজদণ্ড ধারণ করিতে লাগিলেন, ব্রাহ্মণগণই তাঁহাদের পরিচালক হইলেন। বৈশ্যগণ আরও হীন দশা প্রাপ্ত হইতে লাগিলেন। শূদ্রদিগের ত কথাই নাই। তাহারা সকল প্রকার সামাজিক শক্তি ও অধিকার হইতে বঞ্চিত হইয়া নিতান্ত নিকৃষ্ট ও পশু প্রায় হইয়া জীবন ধারণ করিতে লাগিল। ইহাদের সামাজিক দুর্গতির সীমা পরিসীমা রহিল না। এই সামাজিক দুর্গতির পরিচয় কিরূপে দিব? মনু রচিত সংহিতা যে সময়ে সংকলিত হইয়াছিল, নেই সময়কে জাতিভেদের প্রকোপের পরাকাষ্ঠাকাল বলিয়া গণ্য করা যাইতে পারে। অতএব সেই মনুসংহিতা হইতে কতকগুলি বচন উদ্ধৃত করিতেছি—তাহা দেখিলেই পাঠকগণ বুঝিতে পারিবেন প্রাচীন আর্য্যসমাজে হতভাগ্য শূদ্র জাতির কতদূর দুর্গতি হইয়াছিল।

 মনু বলিয়াছেন:—

“যেন কেন চিদঙ্গেন হিংস্যাচ্চেচ্ছ্রেষ্ট মন্ত্যজঃ।
 ছেত্তব্যং তত্তদেবাস্য তন্মনো রনুশাসনং॥

 অর্থঃ—অন্ত্যজ অর্থাৎ শূদ্র যে কোন অঙ্গের দ্বারা শ্রেষ্ঠ জাতীয় কোন ব্যক্তিকে প্রহার করিবে তাহার সেই সেই অঙ্গ ছেদন করিতে হইবে, ইহাই মনুর বিধি।