বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:জাতিভেদ - শিবনাথ শাস্ত্রী.pdf/৩৭

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
জাতিভেদ।
৩৫

 অর্থঃ—“শূদ্র যদি কোন দ্রব্য উপার্জ্জন করে ব্রাহ্মণ অসঙ্কোচে সমুদায় কাড়িয়া লইবেন, কারণ শূদ্রের ধনে অধিকার নাই; সে যে কিছু উপার্জ্জন করিবে সে সমুদায় তাহার প্রভুর।”

 পুনশ্চ—

শক্তেনাপিহি শূদ্রেণ ন কার্য্যো ধন সঞ্চয়ঃ।
শূদ্রোহি ধন মাসাদ্য ব্রাহ্মণানেব বাধতে॥”

 অর্থঃ—শূদ্র যদি কৃতীও হয় তথাপি সে ধন সঞ্চয় করিবে না। কারণ শূদ্রের হস্তে ধন সঞ্চয় হইলে ব্রাহ্মণদিগকে ক্লেশ পাইতে হইবে।”

 পাঠক আর কি শুনিতে চান? শূদ্র ধনশালী হইলে পাছে ব্রাহ্মণদিগের প্রতাপ খর্ব্ব হয়, পাছে তাঁহাদের নিরঙ্কুশ প্রভুত্বের হানি হয় এই জন্য শূদ্র কৃতী হইলেও ধনসঞ্চয় করিবে না। শূদ্র ইচ্ছামত শ্রম করিতে পারিবে না; ইচ্ছা মত বিশ্রাম করিতে পারিবে না; স্বাধীনভাবে বিচরণ করিতে পারিবে না; শরীরের রক্ত জল করিয়া যে বস্তু উপার্জ্জন করিবে তাহাতে তার অধিকার থাকিবে না; পাছে ব্রাহ্মণদিগের প্রভুত্বের হানি হয় এজন্য ধনসঞ্চয় করিবে না। কি ভয়ানক বিধি? অপেক্ষা করুন আরও আছে। প্রাচীন শাস্ত্রকারগণ যদি এখানেও ক্ষান্ত হইতেন, তাহা হইলেও এক প্রকার হইত। ধর্ম্মে মানব মাত্রেরই অধিকার; যদি সেই ধর্ম্মে শূদ্রদিগের অধিকার দিতেন তাহা হইলেও বলিতাম, যে না প্রাচীন আর্য্য-সমাজের ধর্ম্মশাস্ত্রকারগণ মানবকে