বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:জাতিভেদ - শিবনাথ শাস্ত্রী.pdf/৪

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
জাতিভেদ।

অনুমান করা যায় না যে, যে সময়ে বেদের উক্ত সূক্তটী রচিত হইয়াছিল যে সময়ে নিশ্চয় বাণিজ্যার্থ সমুদ্রে গমনাগমন হইত? এইরূপে জাতিভেদ প্রথার আদি নির্ণয়ের জন্যও আমাদিগকে প্রাচীন শাস্ত্র সকল অবলম্বন করিয়া ইতিবৃত্তের তত্ত্ব নিশ্চয় করিতে হইবে।

 এক্ষণে সকল গ্রন্থের মধ্যে আদি গ্রন্থ বেদ। তাহার মধ্যে আদিতম ঋগ্বেদ। এই ঋগ্বেদ সম্বন্ধে দুই একটী কথা বলা আবশ্যক বোধ হইতেছে। এই ঋগ্বেদ কতকগুলি মন্ত্রের সমষ্টি মাত্র। এই মন্ত্রগুলি ছন্দোবদ্ধ গীতের ন্যায়। এই সকল মন্ত্র এককালের রচিত মন্ত্র নয়। তাহাদের ভাষা, বর্ণনীয় বিষয়, বর্ণিত সমাজের ছবি প্রভৃতি দেখিলেই তাহাদিগকে নানা যুগের রচিত বলিয়া বোধ হয়। এই সকল মন্ত্রের অধিকাংশ এমন সময়ে রচিত হইয়াছিল, যখন বর্ণমালার সৃষ্টি হয় নাই এবং লিখিবার প্রথা প্রবর্তিত ছিল না। তখন ঐ সকল মন্ত্র মথে মুখে রচিত হইয়া মুখে মুখে শেখা হইত, এবং মুখে মুখে বিচরণ করিত। লোকে ইহার মুখে, উহার মুখে, তাহার মুখে মন্ত্রগুলি সর্ব্বদা শুনিত কিন্তু কেহ কখনও তাহা লিখিত দেখে নাই। এই জন্য ঐ সকলের নাম শ্রুতি হইয়াছিল। তৎপরে বর্ণমালার সৃষ্টির পরে সময়ে সময়ে এক একজন পণ্ডিত উদ্যোগী হইয়া স্মৃতি হইতে ও লোক মুখ হইতে সংগ্রহ করিয়া বর্ণিত বিষয়ানুসারে তাহাদিগকে মণ্ডল, অধ্যায়, সূক্ত প্রভৃতিতে বিভাগ