করিয়া গ্রন্থাকারে নিবদ্ধ করিয়া গিয়াছেন। এই সকল পণ্ডিত বেদব্যাস নামে উক্ত হইয়াছেন। এই সকল ঋগ্বেদের কোন একটী সূক্ত পাঠ করিতে গেলেই দেখিতে পাইবেন যে সর্ব্বাগ্রেই অমুক দেবতা, অমুক ঋষি,অমুক ছন্দ, প্রভৃতি নির্দ্দেশ করা হইয়াছে। ইহার তাৎপর্য্য এই সংগ্রহ-কর্ত্তা সংগ্রহ করিবার সময় যে ঋষিকে যে মন্ত্রের রচয়িতা বলিয়া শুনিয়াছেন সেই মন্ত্রের অগ্রে সেই নাম নির্দ্দেশ করিয়া গিয়াছেন। দৃষ্টান্ত স্বরূপ মনে করুন, পথভিখারীদিগের মুখে আমরা প্রতিদিন কত শত সঙ্গীত শুনিয়া থাকি। তাহার কোনটা রামপ্রসাদের, কোনটী দেওয়ানজীর, কোনটী শ্রীধরের কোনটী অন্য অন্য কবির। আমরা অনেক দিন হইতে এই সকল গান শুনিয়া আসিতেছি, এবং অনেকগুলি কণ্ঠস্থও করিয়াছি কিন্তু কখনও পুস্তকাকারে লিখিত দেখি নাই। এখন যদি কেহ এইগুলি সংগ্রহ করিবার সংকল্প করেন, তাহা হইলে তাঁহাকে কি করিতে হয়? তাঁহাকে এ ভিক্ষুকের নিকট দশটী, উহার নিকট চারিটী এইরূপ করিয়া সংগ্রহ করিতে হয়; অথচ সংগ্রহ করিবার সময় বিদ্যাপতির সময় অবধি বর্তমান সময় পর্য্যন্ত এই তিন চারি শতাব্দীর মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে রচিত গান সকল একত্র নিবন্ধ করিতে হয় এবং ভিক্ষুকদিগের মুখে যে গানের যে রচয়িতার নাম প্রাপ্ত হওয়া যায় তাহা লিখিয়া দিতে হয়। বেদ মন্ত্র সকল ঠিক এই প্রণালীতে সংগৃহীত ও বিভক্ত হইয়া-
পাতা:জাতিভেদ - শিবনাথ শাস্ত্রী.pdf/৫
অবয়ব
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
জাতিভেদ।
৩