দেরই লোকের দ্বারা তোমাদিগকে শাসনে রাখিয়াছি। বলের অভাবের জন্য তোমরা আমাদের অধীন নও, কিন্তু আর এক কারণে। তোমাদের মধ্যে এমন একটী বিষয় আছে যে জন্য তোমাদিগকে এক হইতে দিবে না এবং তোমরা আমাদিগকে তাড়াইতে পারিবে না।
আমি জিজ্ঞাসা করিলাম, সে বিষয়টী কি?
তিনি বলিলেন—তাহা জাতিভেদ প্রথা। এ প্রথা বাঁচিয়া থাক্, আমাদিগকে এদেশ হইতে তাড়ায় কাহার সাধ্য?
বাস্তবিক এই জাতিভেদ প্রথা ভারতীয় জাতি সকলের মধ্যে আত্মীয়তা ও সমদুঃখসুখতা বর্দ্ধিত হইতে দেয় নাই। এই কারণেই ভারতবাসিগণ এত দুর্ব্বল।
জাতিভেদের দ্বিতীয় অনিষ্ট ফল এই হইয়াছে যে এতদ্বারা কায়িক শ্রমসাধ্য কার্য্যকে নিকৃষ্ট ও লোকের চক্ষে হেয় করিয়াছে। এ দেশে কায়িক শ্রম চিরদিন হীন জাতিরাই করিয়া আসিতেছে; ব্রাহ্মণ প্রভৃতি উৎকৃষ্ট বর্ণেরা সে সকল কার্য্যকে তাহাদের অযোগ্য বোধে পরিত্যাগ করিয়াছেন। দেশে এই প্রথা চিরদিন প্রচলিত থাকাতে কায়িক শ্রমের প্রতি ভদ্রলোকের ঘৃণা বদ্ধমূল হইয়াছে। এই কারণে দেখিতে পাই এদেশে শিক্ষা বা অন্য কোন কারণে যাহারই অবস্থা একটু ভাল হয় সে এবং তাহার পুত্র পৌত্রগণ অমনি কায়িক শ্রমকে ঘৃণিত বলিয়া অনুভব