বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:জাতিভেদ - শিবনাথ শাস্ত্রী.pdf/৬৭

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
জাতিভেদ।
৬৫


কল্যাণ সাধনে নিয়োগ করিবে। ইহাই ঐশ্বরিক বিধি। জাতিভেদ প্রথা এই বিধিকে লঙ্ঘন করিয়াছে। জাতিভেদ প্রথা বলিতেছে তুমি যদি বুদ্ধিমান হও, যদি জ্ঞানী হও, যদি ধার্ম্মিক প্রবর হও, কিন্তু তুমি যদি শূদ্র হও তবে তুমি ব্রাহ্মণের সমাধিকার পাইবে না। এই ন্যায়বিরুদ্ধ, ধর্ম্মবিরুদ্ধ ও ঈশ্বরেচ্ছা বিরুদ্ধ বিধি প্রচলিত থাকাতে বহু বহু শতাব্দী ধরিয়া ব্রাহ্মণগণ ব্রাহ্মণেতর জাতিদিগের প্রতিভা ও আধ্যাত্মিক শক্তি সকলকে চাপিয়া রাখিয়াছিলেন। তাহাদিগকে এইরূপে পদতলে চাপিয়া রাখাতে কি দেশের সমূহ অকল্যাণ করা হয় নাই? তাহারা যদি অবাধে আপনাদের শক্তি সকলকে বিকশিত করিবার অবসর পাইত, যদি স্বীয় শক্তি অনুসারে উন্নত পদে আরোহণ করিতে পারিত, যদি তদনুরূপ সামাজিক সম্ভ্রম লাভে সমর্থ হইত, যদি আপনাদের প্রতিভালোকে দেশীয় সাহিত্যকে আলোকিত করিতে পারিত, তাহা হইলে কি তাহাদের গৌরবে দেশ আরও গৌরবান্বিত হইত না? তাহাদের যশঃ সৌরভে ভারতাকাশকে আমোদিত করিত না? সে লাভ কাহার হইত? বর্ত্তমান সময়ে জাতিভেদের প্রকোপ শিথিল হওয়ার ফল আমরা কি দেখিতে পাইতেছি? আমাদের ডাক্তার মহেন্দ্রলাল সরকার, আমাদের কৃষ্ণদাস পাল, কে ইহাদের নাম স্মরণপূর্ব্বক স্বদেশকে গৌরবান্বিত মনে করে না? জাতিভেদ প্রবল থাকিলে কি এ সকল লোককে পাওয়া যাইত? ইহাদিগের দ্বারা