পাতা:জাপানে-পারস্যে-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১০৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটিকে বৈধকরণ করা হয়েছে। পাতাটিতে কোনো প্রকার ভুল পেলে তা ঠিক করুন বা জানান।
৯৬
জাপানে-পারস্যে

 কিন্তু সচলতার বেগেই সেই বাধা ক্ষয় হয়ে চলেছে। প্রথম প্রথম যা অসংগত অদ্ভূত হয়ে দেখা দিচ্ছে, ক্রমে ক্রমে তার পরিবর্তন ঘটে সুসংগতি জেগে উঠছে। একদিন যে-অনাবশ্যককে সে গ্রহণ করেছে, আর একদিন সেটাকে ত্যাগ করেছে—একদিন যে আপন জিনিসটাকে পরের হাটে সে খুইয়েছে, আর একদিন সেটাকে আবার ফিরে নিচ্ছে। এই তার সংশােধনের প্রক্রিয়া এখনাে নিত্য তার মধ্যে চলছে। যে-বিকৃতি মৃত্যুর, তাকেই ভয় করতে হয়-যে-বিকৃতি প্রাণের লীলা-বৈচিত্র্যে হঠাৎ এক-এক সময়ে দেখা দেয়, প্রাণ আপনি তাকে সামলে নিয়ে নিজের সঙ্গে এসে দাঁড়াতে পারে।

 আমি যখন জাপানে ছিলুম, তখন একটা কথা বারবার আমার মনে এসেছে। আমি অনুভব করছিলুম, ভারতবর্ষের মধ্যে বাঙালির সঙ্গে জাপানির এক জায়গায় যেন মিল আছে। আমাদের এই বৃহং দেশের মধ্যে বাঙালিই সব প্রথমে নতুনকে গ্রহণ করেছে, এবং এখনাে নতুনকে গ্রহণ ও উদ্ভাবন করবার মতাে তার চিত্তের নমনীয়তা আছে।

 তার একটা কারণ, বাঙালির মধ্যে রক্তের অনেক মিশল ঘটেছে; এমন মিশ্রণ ভারতের আর কোথাও হয়েছে কিনা সন্দেহ। তার পরে বাঙালি ভারতের যে প্রান্তে বাস করে, সেখানে বহুকাল ভারতের অন্য প্রদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে। বাংলা ছিল পাণ্ডব-বর্জিত দেশ। বাংলা একদিন দীর্ঘকাল বৌদ্ধপ্রভাবে, অথবা অন্য যে কারণেই হক, আচারভ্রষ্ট হয়ে নিতান্ত একঘরে হয়েছিল—তাতে করে তার একটা সংকীর্ণ স্বাতন্ত্র্য ঘটেছিল—এই কারণেই বাঙালির চিত্ত অপেক্ষাকৃত বন্ধনমুক্ত, এবং নতুন শিক্ষা গ্রহণ করা বাঙালির পক্ষে যত সহজ হয়েছিল এমন ভারতবর্ষের অন্য কোনাে দেশের পক্ষে হয় নি। য়ুরােপীয় সভ্যতার পূর্ণ দীক্ষা জাপানের মতাে আমাদের পক্ষে অবাধ নয়; পরের কৃপণ হস্ত