পাতা:জাপানে-পারস্যে-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৬৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটিকে বৈধকরণ করা হয়েছে। পাতাটিতে কোনো প্রকার ভুল পেলে তা ঠিক করুন বা জানান।
৫৮
right
জাপানে-পারস্যে

কথা। অর্থাৎ ব্যবসার দাবি সচরাচর যে-পাথরের পাঁচিল খাড়া করে আত্মরক্ষা করে, এখানে তার মধ্যে দিয়েও মানব-সম্বন্ধের আনাগােনার পথ আছে। এবং সে পথ কম প্রশস্ত নয়।

 জাহাজ এখানে দিন দুয়েক থাকবে। সেই দুদিনের জন্যে শহরে নেবে হােটেলে থাকবার প্রস্তাব আমার মনে নিলে না। আমার মতো কুঁড়ে মানুষের পক্ষে আরামের চেয়ে বিরাম ভালো; আমি বলি, সুখের ল্যাঠা অনেক, সােয়াস্তির বালাই নেই। আমি মাল তােলা-নামার উপদ্রব স্বীকার করেও, জাহাজে রয়ে গেলুম। সেজন্যে আমার যে বকশিস মেলে নি তা নয়।

 প্রথমেই চোখে পড়ল জাহাজের ঘাটে চীনা মজুরদের কাজ। তাদের একটা করে নীল পায়জামা পরা এবং গা খােলা। এমন শরীরও কোথা দেখি নি, এমন কাজও না। একেবারে প্রাণসার দেহ, লেশমাত্র বাহুল্য নেই। কাজের তালে তালে সমস্ত শরীরের মাংসপেশী কেবলি ঢেউ খেলাচ্ছে। এরা বড়ো বড়াে বােঝাকে এমন সহজে এবং এমন দ্রুত আয়ত্ব করেছে যে সে দেখে আনন্দ হয়। মাথা থেকে পা পর্যন্ত কোথাও অনিচ্ছা, অবসাদ বা জড়ত্বের লেশমাত্র লক্ষণ দেখা গেল না। বাইরে, থেকে তাড়া দেবার কোনাে দরকার নেই! তাদের দেহের বীণাযন্ত্র থেকে কাজ যেন সংগীতের মতাে বেজে উঠছে। জাহাজের ঘাটে মাল তোলা-নামার কাজ দেখতে যে আমার এত আনন্দ হবে, এ-কথা আমি পূর্বে মনে করতে পারতুম না। পূর্ণ শক্তির কাজ বড় সুন্দর; তা প্রত্যেক আঘাতে আঘাতে শরীরকে সুন্দর করতে থাকে, এবং সে শরীরও কাজকে সুন্দর করে তােলে। এইখানে কাজের কাব্য এবং মানুষের শরীরের ছন্দ আমার সামনে বিস্তীর্ণ হয়ে দেখা দিলে। এক কথা জোর করে বলতে পারি, ওদের দেহের চেয়ে কোনো স্ত্রীলােকের দেহ