দিল্লীর প্রাসাদে শালিমার বাগে মধুমক্ষিকার মত আমি উড়ে বেড়িয়েছি। প্রতিমুহূর্ত্তে পুষ্পপত্রে খুঁজে বেড়িয়েছি উত্তেজনা। প্রতিমুহূর্ত্তে সে উত্তেজনায় এগিয়ে এসেছে নিশীথিনীর প্রান্তে অন্ধকার মৃত্যুর অন্বেষণে। মণিমাণিক্যোজ্জ্বল মক্ষিরাণী স্বর্ণরেণু পাখায় মেখে নৃত্য করতে করতে সূর্য্যের দিকে ছুটে চলেছে; চিরন্তন আলোর সাথে সে নব-জীবন লাভ করবে, সে মরবে না—কারণ আকাশে তারার মালা জ্বলছে।
আমি ভয়ে শিউরে উঠেছি, আমার কল্পলোকে পৌঁছবার আগেই যদি আমার রূপ ম্লান হয়ে যায়, তখন ত আমি আর সেই বেগম জাহানারা থাকব না। আমার প্রিয়তমের হৃদয়রাণী হয়ে জীবনের শেষমুহূর্ত শেষ করতে পাব না। ভাগ্যদেবীর পানপাত্র পান করেছি আমি আকণ্ঠ। তবু আজও আমি তৃষাতুরা।
ঐ অস্তসূর্য্যের রক্তরশ্মি জীর্ণ পত্রশিরে সোনার মুকুট পরিয়ে দিয়েছে। তেমনি আমার প্রিয় 'রাজার' শিরে আমি পরিয়ে দিচ্ছি স্মৃতির মুকুট।
আজও সেই স্মৃতি অম্লান। যেদিন দেওয়ান-ই-আমের দরবার কক্ষে আমার প্রিয়তম প্রথম সম্রাট শাহজাহানকে অভিবাদন করেছিলেন, সেদিন আমি ছিলাম তরুণী; অশ্বারোহীর দল চোখের দৃষ্টি অতিক্রম করে চলে গেল। বাঁশীর সুর, করতলের ধ্বনি শান্ত—চারিদিকে গভীর নীরবতা, আমি মহলের ঝারাখোর[১] পাশে দাঁড়িয়ে আছি। ঐ আমার রাজা ধীর পদক্ষেপে সিংহাসনের দিকে অগ্রসর হচ্ছেন। আমার মনে হচ্ছে যেন আমার সমস্ত রক্ত দেহের প্রবাহ স্তব্ধ হয়ে যাচ্ছে। একি নিষাদরাজ নল[২]? রাজা নল কি আবার মর্ত্ত্যে অবতীর্ণ হয়েছেন?