মুখবন্ধ
মঘেল পরিবারে আত্মজীবনী রচনা পারিবারিক সংস্কৃতির অঙ্গরূপে বিবেচিত হ’ত। মুঘল বংশ প্রতিষ্ঠাতা তৈমুর লিখেছিলেন—“মালফুজাত-ই-তৈমুরা” —তৈমুরের আত্মকাহিনী। বাবর লিখেছিলেন-—“তুজুক-ই-বাবরী”—বাবরের ঘটনাবলি। আকবরের অনুরোধে বাবরের কন্যা গুলবদন বেগম লিখেছিলেন... “হুমায়ুন-নামা”—হুমায়ুনের কাহিনী; আকবর অবশ্য শৈশবে রীতিমত জ্ঞানানুশীলনের সুযোগ পান নি, কিন্তু, বার্দ্ধক্যে সে অভাব পূরণ করেছিলেন তাঁর রাজসভায় নবরত্ন প্রতিষ্ঠা করে। জাহাঙ্গীর রচিত “তুজুক-ই-জাহাঙ্গীর” —অপূর্ব্ব আত্মজীবনী। মুঘল যুগে প্রত্যেক রাজসভার রাজ-লেখক বা “ওয়াকিয়া-নবীশ” (Recorder of Events) উপস্থিত থাকতেন। তিনি বাদশাহের মুখনিঃসৃত ক্ষুদ্রতম কথাও লিখে নিতেন। ওয়াকিয়া-নবীশের লেখা পড়লে মুঘল রাজত্বের কত অদ্ভুত ঘটনার সন্ধান পাওয়া যায়। মুঘল যুগে ১৫২৬-১৭১২ খৃষ্টাব্দ পর্যন্ত ১৮৬ বৎসরে বাবর বংশে ২২০০ সন্তান জন্মগ্রহণ করেছিলেন। শাহজাহানের পুত্র দারা শুকোর রচিত সর্-ই-আস্বার —উপনিষদের সার-সংগ্রহ, অপরূপ রচনা। তিনি হিন্দু মসলিম সম্প্রীতির প্রচেষ্টা করেছিলেন। জাহানারা কারাজীবনে তাঁর আত্মকাহিনী লিখেছিলেন। সে কাহিনী সিংহাসনের লোভে ভ্রাতৃবিরোধের ইতিহাস।
১৬৫৭ সাল। সম্রাট শাহজাহান পক্ষাঘাতে পঙ্গু। মমতাজ বহুদিন পূর্ব্বে দেহত্যাগ করেছেন। তাঁর চার পুত্র দারা, শুজা, আওরঙ্গজেব, মুরাদ; দুইকন্যা জাহানারা ও রোশন-আরা। দারার বয়স ৪৩, শুজা ৪১, আওরঙ্গজেব ৩৯, মুরাদ ৩৩। প্রত্যেকেই বয়স্ক, বীর, যোদ্ধা, রাজনীতিতে অভিজ্ঞ। শাহজাহানের প্রিয়পুত্র জ্যেষ্ঠ দারা শুকো, প্রিয়তমা কন্যা জাহানারা। মাতৃহীনা কন্যা পত্নীহারা পিতা শাহজাহানকে যত্ন, মমতা প্রীতি দিয়ে আবেষ্টন করে রেখেছিলেন। জাহানারা ছিলেন মুঘল অন্তঃপুরের মধ্যমণি। রাজকার্য্যেও তিনি সময় সময় সম্রাটকে সাহায্য করেছেন। সম্রাটের “পাঞ্জা” মোহর বহুদিন তাঁর তত্ত্বাবধানে ছিল। দারার সঙ্গে তাঁর যোগসূত্র ছিল গভীর, কারণ দুইজন