পাতা:জীবন-স্মৃতি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১০৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


হিমালয় যাত্রা । (이 ছুটি দিতেন সেখানে তিনি কোনে কারণে কোনো বাধাই দিতেন না, যেখানে তিনি নিয়ম বধিতেন সেখানে তিনি লেশমাত্র ছিদ্র রাখিতেন না । যাত্রার আরম্ভে প্রথমে কিছুদিন বোলপুরে থাকিবার কথা । কিছুকাল পূর্বে পিতামাতার সঙ্গে সত্য সেখানে গিয়াছিল। তাহার কাছে ভ্রমণ-বৃত্তান্ত যাহা শুনিয়াছিলাম উনবিংশ শতাব্দীর কোনো ভদ্রঘরের শিশু তাহা কখনই বিশ্বাস করিতে পারিত না । কিন্তু আমাদের সেকালে সম্ভব অসন্তবের মাঝখানে সামা-রেখাটা যে কোথায় তাহা ভাল করিয়া চিনিয়া রাখিতে শিখি নাই। কৃত্তিবাস কাশীরামদাস এ সম্বন্ধে আমাদের কোনে সাহায্য করেন নাই । রংকর ছেলেদের বই এবং ছবিদেওয়া ছেলেদের কাগজ সত্যমিথ্যাসম্বন্ধে আমাদিগকে আগেভাগে সাবধান করিয়া দেয় নাই । জগতে যে একটা কড়া নিয়মের উপসর্গ অাছে সেটা আমাদিগকে নিজে ঠেকিয় শিখিতে হইয়াছে । সত্য বলিয়াছিল বিশেষ দক্ষত না থাকিলে রেলগাড়ীতে চড়া এক ভয়ঙ্কর সঙ্কট—প ফস্কাইয়া গেলেই আর রক্ষা নাই । তারপর গাড়ী যখন চলিতে আরম্ভ করে, তখন শরীরের সমস্ত শক্তিকে আশ্রয় করিয়া খুব জোর করিয়া বসা চাই, নহিলে এমন ভয়ানক ধাক্কা দেয় যে, মানুষ কে কোথায় ছিটকাইয়া পড়ে তাহার ঠিকানা পাওয়া যায় না। ষ্টেশনে পৌঁছিয়া মনের মধ্যে বেশ একটু ভয় ভয় করিতেছিল। কিন্তু গাড়িতে এত সহজেই উঠিলাম যে মনে সন্দেহ হইল এখনো হয়ত গাড়ি ওঠার আসল অঙ্গটাই বাকি আছে । তাহার পরে যখন অত্যন্ত সহজে গাড়ি ছাড়িয়া দিল তখন কোথাও বিপদের একটুও আভাস না পাইয়া মনটা বিমর্ষ হইয়া গেল । গাড়ি ছুটিয়া চলিল ; তরুশ্রেণীর সবুজনীল পাড়দেওয়া বিস্তীর্ণ মাঠ এবং ছায়াচ্ছন্ন গ্রামগুলি রেলগাড়ির দুইধারে দুই ছবির ঝরনার মত বেগে ছুটিতে লাগিল, যেন মরীচিকার বন্য বহিয়া চলিয়াছে। সন্ধার সময় বোলপুরে পৌছিলাম। পান্ধীতে চড়িয়া চোখ বুজিলাম। একেবারে কাল সকালবেলায় বোলপুরের সমস্ত বিস্ময় আমার জাগ্রত চোখের সম্মুখে খুলিয়া যাইবে এই