পাতা:জীবন-স্মৃতি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১০৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


হিমালয় যারা । ©Ꮌ টিবিওয়াল খাদগুলিকে থোয়াই বলে। এখান হইতে জামার তাঁচলে নানা প্রকারের পাথর সংগ্ৰহ করিয়া পিতার কাছে উপস্থিত করিতাম । তিনি আমার এই অধ্যবসায়কে তুচ্ছ বলিয়া একদিনে উপেক্ষ করেন নাই। তিনি উৎসাহ প্রকাশ করিয়া বলিতেন—কি চমৎকার! এ সমস্ত তুমি কোথায় পাইলে ! আমি বলিতাম “এমন অরে। কত আছে ! কত হাজার হাজার ! আমি রোজ অনিয়া দিতে পারি।” তিনি বলিতেন “সে হইলে ত বেশ হয় । ঐ পাথর দিয়া আমার এই পাহাড়টা তুমি সাজাইয়া দাও।” একটা পুকুর খুড়িবার চেষ্টা করিয়া অত্যন্ত কঠিন মাটি বলিয়া ছাড়িয় দেওয়া হয়। সেই অসমাপ্ত গর্ভের মাটি তুলিয়া দক্ষিণধারে পাহাড়ের অনুকরণে একটি উচ্চ স্তপ তৈরি হইয়াছিল। সেখানে প্রভাতে আমার পিতা চৌকি লইয়া উপাসনায় বসিতেন। তাহার সম্মুখে পূর্বদিকের প্রান্তরসীমায় সূর্যোদয় হইত। এই পাহাড়টাই পাথর দিয়া খচিত করিবার জন্য তিনি আমাকে উৎসাহ দিলেন। বোলপুর ছাড়িয়া আসিবার সময় এই রাশীকৃত পাথরের সঞ্চয় সঙ্গে করিয়া আনিতে পারি নাই বলিয়া মনে বড়ই দুঃখ অনুভব করিয়াছিলাম। বোঝামাত্রেরই যে বহনের দায় ও মাশুল আছে সে কথা তখন বুঝিতাম না ; এবং সঞ্চয় করিয়াছি বলিয়াই যে তাহার সঙ্গে সম্বন্ধরক্ষা করিতে পারিব এমন কোনো দাবি নাই সে কথা আজও বুঝিতে ঠেকে। আমার সেদিনকার একান্ত মনের প্রার্থনায় বিধাত যদি বর দিতেন যে এই পাথরের বোঝা তুমি চিরদিন বহন করিবে তাহা হইলে এ কথাটা লইয়া আজ এমন করিয়া,হাসিতে পারিতাম না । খোয়াইয়ের মধ্যে এক জায়গায় মাটি চুইয়া একটা গভীর গর্বের মধ্যে জল জমা হইত। এই জলসঞ্চয় আপন বেষ্টন ছাপাইয়া ঝির ঝির করিয়া বালির মধ্য দিয়া প্রবাহিত হইত। অতি ছোট ছোট মাছ সেই জলকুণ্ডের মুখের কাছে স্রোতের উজানে সন্তরণের স্পৰ্দ্ধা প্রকাশ করিত। আমি পিতাকে গিয়া বলিলাম—“ভারি সুন্দর জলের ধারা দেখিয়া আসিয়াছি, সেখান হইতে আমাদের স্বানের ও পানের জল আনিলে বেশ হয় ।" তিনি আমার