পাতা:জীবন-স্মৃতি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১০৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


\ყo औयन-“श्रुङि । উৎসাহে যোগ দিয়া বলিলেন “তাইত, সে ত বেশ হইবে" এবং আবিষ্কারকৰ্ত্তাকে পুরস্কৃত করিবার জন্য সেইখান হইতেই জল আনাইবার ব্যবস্থা করিয়া দিলেন । আমি যখন-তখন সেই খোয়াইয়ের উপত্যক অধিত্যকার মধ্যে অভূতপূর্ব কোনো একটা কিছুর সন্ধানে ঘুরিয়া বেড়াইতাম । এই ক্ষুদ্র অজ্ঞাত রাজ্যের আমি ছিলাম লিভিংস্টোন। এটা যেন একটা দূরবীণের উণ্ট দিকের দেশ । নদীপাহাড়গুলোও মেমন ছোটছোট, মাঝে মাঝে ইতস্ততঃ বুনো জাম, বুনে খেজুরগুলোও তেমনি বেঁটেখাটাে । আমার আবিষ্কৃত ছোট নদীটির মাছগুলিও তেমনি, আর আবিষ্কারকর্তাটির ত কথাই নাই । পিতা বোধ করি আমার সাবধানতাবৃত্তির উন্নতিসাধনের জন্য আমার কাছে দুই চারি অান পয়সা রাখিয়া বলিতেন হিসাব রাখিতে হইবে ; এবং আমার প্রতি র্তাহার দামী সোনার ঘড়িটি দম দিবার ভার দিলেন । ইহাতে যে ক্ষতির সম্ভাবনা ছিল সে চিন্তা তিনি করিলেন না, আমাকে দায়িত্বে দাক্ষিত করাই তাহার অভিপ্রায় ছিল । সকালে যখন বেড়াইতে বাহির হইতেন, তামাকে সঙ্গে লইতেন । পথের মধ্যে ভিক্ষুক দেখিলে ভিক্ষ দিতে আমাকে আদেশ করিতেন । অবশেষে তাহার কাছে জমাখরচ মেলাইবার সময় কিছুতেই মিলিত না । একদিন ত তহবিল বাড়িয়া গেল । তিনি বলিলেন, “তোমাকেই দেখিতেছি আমার ক্যাশিয়ার রাথিতে হইবে, তোমার হাতে আমার টাকা বাড়িয়া উঠে।” তাহার ঘড়িতে যত্ন করিয়া নিয়মিত দম দিতাম। যত্ন কিছু প্রবল বেগেই করিতাম ; ঘড়িটা অনতিকালের মধ্যেই মেরামতের জন্য কলিকাতায় পাঠাইতে হইল । বড় বয়সে কাজের ভfর পাইয়। যখন তাহার কাছে হিসাব দিতে হইত সেই দিনের কথা এইখানে আমার মনে পড়িতেছে । তখন তিনি পার্ক ষ্ট্রীটে থাকিতেন । প্রতি মাসের ২রা ও ৩রা আমাকে হিসাব পড়িয়া শুনাইতে হইত। তিনি তখন নিজে পড়িতে পারিতেন না । গত মাসের ও গত বৎসরের সঙ্গে তুলনা করিয়া সমস্ত আয়ব্যয়ের বিবরণ র্তাহার সম্মুখে ধরিতে