পাতা:জীবন-স্মৃতি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১০৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


হিমালয় যাত্রা । Wう〉 হইত। প্রথমতঃ মোটা অঙ্কগুলা তিনি শুনিয়া লইতেন ও মনে মনে তাহার যোগ বিয়োগ করিয়া লইতেন । মনের মধ্যে যদি কোনোদিন অসঙ্গতি অনুভব করিতেন তবে ছোট ছোট অঙ্কগুল শুনাইয়। যাইতে হইত। কোনো কোনো দিন এমন ঘটিয়াছে হিসাবে যেখানে কোনো দুর্বলতা থাকিত সেখানে র্তাহার বিরক্তি বঁাচাইবার জন্য চাপিয়া গিয়াছি কিন্তু কখনও তাহা চাপ থাকে নাই । হিসাবের মোট চেহারা তিনি চিন্তপটে অশকিয়া লইতেন । যেখানে ছিদ্র পড়িত সেখানেই তিনি ধরিতে পারিতেন । এই কারণে মাসের ঐ দুটা দিন বিশেষ উদ্বেগের দিন ছিল । পূর্বেই বলিয়াছি মনের মধ্যে সকল জিনিষ স্থম্পস্ট করিয়া দেখিয় লওয়া তাহার প্রকৃতিগত ছিল—ত হিসাবের অঙ্কই হোক, বা প্রাকৃতিক দৃশুই হোক, বা অনুষ্ঠানের আয়োজনই হোক। শান্তিনিকেতনের নূতন মন্দির প্রভৃতি অনেক জিনিষ তিনি চক্ষে দেখেন নাই। কিন্তু যে-কেহ শান্তিনিকেতন দেখিয়া তাতার কাছে গিয়াছে প্রত্যেক লোকের কাছ হইতে বিবরণ শুনিয় তিনি অপ্রত্যক্ষ জিনিষগুলিকে মনের মধ্যে সম্পূর্ণরূপে অ'কিয় না লইয়া ছাড়েন নাই । তাহার স্মরণশক্তি ও ধারণাশক্তি অসাধারণ ছিল । সেই জন্য একবার মনের মধ্যে যাহা গ্রহণ করিতেন তাহা কিছুতেই তাহার মন হইতে ভ্ৰষ্ট হইত না । ভগবদগীতায় পিতার মনের মত শ্লোকগুলি চিহিত করা ছিল। সেইগুলি বাংলা অনুবাদসমেত আমাকে কপি করিতে দিয়াছিলেন । বাড়িতে আমি নগণ্য বালক ছিলাম, এখানে আমার পরে এই সকল গুরুতর কাজের ভার পড়াতে তাহার গৌরবটা খুব করিয়া অনুভব করিতে লাগিলাম। ইতিমধ্যে সেই ছিন্নবিচ্ছিন্ন নীল খাতাটি বিদায় করিয়া একখানা বাধানে লেটস ডায়ারি সংগ্ৰহ করিয়াছিলাম। এখন খাতাপত্র এবং বাহউপকরণের দ্বারা কবিত্বের ইজ্জৎ রাখিবার দিকে দৃষ্টি পড়িয়াছে। শুধু কবিতা লেখা নহে, নিজের কল্পনার সম্মুখে নিজেকে কবি বলিয়া খাড়া করিবার জন্য একটা চেষ্টা জন্মিয়াছে। এই জন্য বোলপুরে যখন কবিতা লিখিতাম তখন বাগানের প্রান্তে একটি শিশু নারিকেল গাছের তলায় মাটিতে পা ছড়াইয়া বসিয়া খাত