পাতা:জীবন-স্মৃতি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১১৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


হিমালয় যাত্রা । \bo অমৃতসরে গুরুদরবার আমার স্বপ্নের মত মনে পড়ে। অনেক দিন সকালবেলায় পিতৃদেবের সঙ্গে পদব্রজে সেই সরোবরের মাঝখানে শিখমন্দিরে গিয়াছি। সেখানে নিয়তই ভজনা চলিতেছে । আমার পিতা সেই শিথ উপাসকদের মাঝখানে বসিয়া সহসা একসময় স্থর করিয়া তাহাদের ভজনায় যোগ দিতেন—ৰিদেশীর মুখে তাহাদের এই বন্দনাগান শুনিয় তাহার অত্যন্ত উৎসাহিত হইয়া উঠিয় তাহাকে সমাদর করিত। ফিরিবার সময় মিছরির খণ্ড ও হালুয়া লইয়া আসিতেন । একবার পিতা গুরুদরবারের একজন গায়ককে বাসায় তানাইয় তাহার কাছ হইতে ভজনাগান শুনিয়াছিলেন। বোধ করি তাহাকে যে পুরস্কার দেওয়া হইয়াছিল তাহার চেয়ে কম দিলেও সে খুসি হইত। ইহার ফল হইল এই, আমাদের বাসায় গান শোনাইবার উমেদারের আমদানি এত বেশি হইতে লাগিল যে তাহণদের পথরোধের জন্য শক্ত বন্দোবস্তের প্রয়োজন হইল । বাড়িতে সুবিধা না পাইয় তাহারা সরকারী রাস্তায় আসিয়া আক্রমণ আরম্ভ করিল। প্রতিদিন সকাল বেলায় পিতা আমাকে সঙ্গে করিয়া বেড়াইতে বাহির হইতেন । সেই সময়ে ক্ষণে ক্ষণে হঠাৎ সম্মুখে তানপুরাঘাড়ে গায়কের আবির্ভাব হইত। যে পার্থীর কাছে শিকারী অপরিচিত নহে সে যেমন কহারে ঘাড়ের উপর বন্দুকের চোঙ দেখিলেই চমকিয় উঠে, রাস্তার সুদূর কোনো একটা কোণে তানপুরাযন্ত্রের ডগাটা দেখিলেই আমাদের সেই দশা হইত। কিন্তু শিকার এমনি সেয়ান হইয়া উঠিয়াছিল, যে তাহদের তানপুরার আওয়াজ নিতান্ত ফাক আওয়াজের কাজ করিত—তাহা আমাদিগকে দূরে ভাগাইয়া দিত, পাড়িয়া ফেলিতে পারিত না । যখন সন্ধ্যা হইয়া আসিত পিতা বাগানের সম্মুখে বারান্দায় আসিয়া বসিতেন । তখন তাহাকে ব্রহ্মসঙ্গীত শোনাইবার জন্য আমার ডাক পড়িত । চাদ উঠিয়াছে, গাছের ছায়ার ভিতর দিয়া জ্যোৎস্নার আলো বারান্দার উপর আসিয়া পড়িয়াছে—আমি বেহাগে গান গাহিতেছি—