পাতা:জীবন-স্মৃতি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১১৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


૭૭ জীবন-স্মৃতি । অধিত্যকা-দেশে নানাবিধ চৈতালি ফসলে স্তরে স্তরে পংক্তিতে পংক্তিতে সৌন্দর্য্যের আগুন লাগিয়া গিয়াছিল । আমরা প্রাতঃকালেই দুধরুটি খাইয়া বাহির হইতাম এবং অপরাহ্নে ডাকবাংলায় আশ্রয় লইতাম । সমস্তদিন আমার দুই চোখের বিরাম ছিল না—পাছে কিছু একটা এড়াইয়া যায় এই আমার ভয় । যেখানে পাহাড়ের কোনো কোণে পথের কোনো বাকে পল্লবভারাচচ্ছন্ন বনস্পতির দল নিবিড় ছায়া রচনা করিয়া দাড়াইয়া আছে, এবং ধ্যানরত বৃদ্ধ তপস্বীদের কোলের কাছে লীলাময়ী মুনিকস্যাদের মত দুই একটি ঝরণার ধারা সেই ছায়াতল দিয়া শৈবালাচ্ছন্ন কালো পাথরগুলার গা বাহিয়া ঘনশীতল অন্ধকারের নিভৃত নেপথ্য হইতে কুল্‌কুল করিয়া ঝরিয়া পড়িতেছে, সেখানে ঝাপানির ঝাপান নামাইয়া বিশ্রাম করিত। আমি লুব্ধভাবে মনে করিতাম এ সমস্ত জায়গা আমাদিগকে ছাড়িয়া যাইতে হইতেছে কেন ? এইথানে থাকিলেই ত হয় । নূতন পরিচয়ের ঐ একটা মস্ত সুবিধা । মন তখনো জানিতে পারে ন৷ যে এমন আরো অনেক আছে । তাহ জানিতে পারিলেই হিসাবী মন মনোযোগের খরচটা বঁাচাইতে চেষ্টা করে । যখন প্রত্যেক জিনিষটাকেই একান্ত দুর্লভ বলিয়া মনে করে ত নই মন আপনার কৃপণতা ঘুচাইয় পূর্ণ মূল্য দেয় । তাই আমি একএকদিন কলিকাতার রাস্তা দিয়া যাইতেযাইতে নিজেকে বিদেশী বলিয়া কল্পনা করি। তখনি বুঝিতে পারি দেখিবার জিনিষ ঢের আছে কেবল মন দিবার মূল্য দিই না বলিয়া দেখিতে পাই না । এই কারণেই দেখিবার ক্ষুধা মিটাইবার জন্য লোকে বিদেশে যায় । আমার কাছে পিতা তাহার ছোট ক্যাশবাক্সটি রাখিবার ভার দিয়াছিলেন। এ সম্বন্ধে আমিই যোগ্যতম ব্যক্তি সে কথা মনে করিবার হেতু ছিল না। পথখরচের জন্য তাহাতে অনেক টাকাই থাকিত। কিশোরী চাটুৰ্য্যের হাতে দিলে তিনি নিশ্চিন্ত থাকিতে পারিতেন কিন্তু আমার উপর বিশেষ ভার দেওয়াই তাহার উদেশ্ব ছিল। ডাকবাংলায় পৌঁছিয়া একদিন বাক্সটি