পাতা:জীবন-স্মৃতি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১২৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


Ꮤ%b~ জীবন-স্মৃতি। তাহার পর আরএক ঘুমের পরে হঠাৎ দেখিতাম পিতা আমাকে ঠেলিয়া জাগাইয়া দিতেছেন। তখনো রাত্রির অন্ধকার সম্পূর্ণ দূর হয় নাই। উপ ক্রমণিকা হইতে নরঃ নরেী নরাঃ মুখস্থ করিবার জন্য আমার সেই সময় নির্দিষ্ট ছিল । শীতের কম্বলরাশির তপ্তবেষ্টন হইতে বড় দুঃখের এই উদ্বোধন । সূর্য্যোদয়কালে যখন পিতৃদেব তাহার প্রভাতের উপাসনাঅন্তে একবাটি দুধ খাওয়া শেষ করিতেন তখন আমাকে পাশে লইয়া দাড়াইয়া উপনিষদের মন্ত্রপাঠদ্বারা তার একবার উপাসনা করিতেন । তাহার পরে আমাকে লইয়া বেড়াইতে বাহির হইতেন । র্তাহার সঙ্গে বেড়াইতে আমি পারিব কেন ? অনেক বয়স্ক লোকেরও সে সাধা ছিল না । আমি পথিমধ্যেই কোনো একটা জায়গায় ভঙ্গ দিয়া পায়-চলা পথ বাহিয়া উঠিয়া আমাদের বাড়িতে গিয উপস্থিত হইতাম । পিতা ফিরিয়া আসিলে ঘণ্টাখানেক ইংরেজি পড়া চলিত। তাহার পর দশটার সময় বরফগলা ঠাণ্ডাজলে স্বান । ইহা হইতে কোনোমতেই অব্যাহতি ছিল না ; তাহার আদেশের বিরুদ্ধে ঘড়ায় গরমজল মিশাইতেও ভূত্যের কেহ সাহস করিত না । ঘেীবনকালে তিনি নিজে কিরূপ দুঃসহ শীতলজলে সুগন করিয়াছেন আমাকে উৎসাহ দিবার জন্য সেই গল্প করিতেন । দুধ খাওয়া আমার আর এক তপস্য ছিল । তামার পিতা প্রচুর পরিমাণে দৃধ গাইতেন । আমি এই পৈতৃক দুগ্ধপানশক্তির অধিকারী হইতে পারিতাম কি না নিশ্চয় বলা যায় না কিন্তু পূর্বেই জানাইয়াছি কি কারণে আমার পানাহারের অভ্যাস সম্পূর্ণ উল্টাদিকে চলিয়াছিল। তাহার সঙ্গে বরাবর তামাকে সৃপ গাইতে হইত। ভৃত্যদের শরণাপন্ন হইলাম। তাহারা অামার প্রতি দয়া করিয়া বা নিজের প্রতি মমতাবশত বাটিতে দুধের অপেক্ষ ফেনার পরিমাণ বেশি করিয়া দিত । মধ্যান্ত্রে তাহারের পর পিতা আমাকে আরএকবার পড়াইতে বসিতেন । কিন্তু সে আমার পক্ষে অসাধ্য হইত। প্রত্যুষের নষ্টলুম তাহার অকালব্যাঘাতের শোধ লইত। আমি ঘুমে বারবার ঢুলিয়া পড়িতাম । আমার