পাতা:জীবন-স্মৃতি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১২৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


হিমালয় যাত্রা । Woo অবস্থা বুঝিয়া পিতা ছুটি দিবামাত্র ঘুম কোথায় ছুটিয়া যাইত। তাহার পরে দেবতা ত্বা নগাধিরাজের পালা । একএকদিন পরবেলায় লাঠিহাতে একলা এক পাহাড় হইতে আরএক পাহাড়ে চলিয়। যাইতাম ; পিতা তাহাতে কখনো উদ্বেগ প্রকাশ করিতেন না । তাহার জীবনের শেষ পর্য্যন্ত ইহ দেখিয়াছি তিনি কোনোমতেই আমদের স্বাতন্ত্র্যে বাধা দিতে চাহিতেন না । তাহার রুচি ও মতের বিরুদ্ধ কাজ অনেক করিয়াছি—তিনি ইচ্ছা করিলেই শাসন করিয়া তাহ নিবারণ করিতে পারিতেন কিন্তু কখনো তাহ করেন নাই । যাহা কৰ্ত্তব্য তাহ আমরা অন্তরের সঙ্গে করিব এজন্য তিনি অপেক্ষা করিতেন । সত্যকে এবং শোভনকে আমরা বাহিরের দিক হইতে লইব ইহাতে র্তাহার মন তৃপ্তি পাইত না—তিনি জানিতেন সত্যকে ভালবাসিতে ন পারিলে সত্যকে গ্রহণ করাই হয় না । তিনি ইহাও জানিতেন যে সত্য হইতে দূরে গেলেও একদিন সত্যে ফেরা যায় কিন্তু কৃত্রিমশাসনে সত্যকে তাগতা অথবা অন্ধভাবে মানিয়া লইলে সত্যের মধ্যে ফিরিবার পথ রুদ্ধ করা হয় । আমার যৌবনারস্তে একসময়ে আমার খেয়াল গিয়াছিল আমি গোরুর গাড়িতে করিয়া গ্রা গুটঙ্ক রোড ধরিয়া পেশোয়ার পর্যন্ত যাইব । আমার এ প্রস্তাব কেহ অনুমোদন করেন নাই এবং ইহাতে আপত্তির বিষয় অনেক ছিল। কিন্তু আমার পিতাকে যখনি বলিলাম, তিনি বলিলেন এ ত খুব ভাল কথা ; রেলগাড়িতে ভ্রমণকে কি ভ্রমণ বলে ? এই বলিয়া তিনি কিরূপে পদব্রজে এবং ঘোড়ার গাড়ি প্রভৃতি বাহনে ভ্রমণ করিয়াছেন তাহার গল্প করিলেন । আমার যে ইহাতে কোনো কষ্ট বা বিপদ ঘটিতে পারে তাহার উল্লেখমাত্র করিলেন না । আর একবার যখন আমি আদিসমাজের সেক্রেটারিপদে নূতন নিযুক্ত হইয়াছি তখন পিতাকে পার্কস্ট্রীটের বাড়িতে গিয়া জানাইলাম যে আদি ব্রাহ্মসমাজের বেদীতে ব্রাহ্মণ ছাড়া অস্ত্যবর্ণের আচার্য্য বসেন না ইহা অামার কাছে ভাল বোধ হয় না। তিনি তখনি আমাকে বলিলেন, বেশ ত, যদি তুমি