পাতা:জীবন-স্মৃতি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১২৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


१२ জীবন-স্মৃতি । ছিল। পথে যেখানে যত সাহেবমেম গাড়িতে উঠিত আমাকে নাড়াচাড়া ন৷ করিয়া ছাড়িত না । বাড়িতে যখন আসিলাম তখন কেবল যে প্রবাস হইতে ফিরিলাম তাহ নহে—এতকাল বাড়িতে থাকিয়াই যে নির্ববাসনে ছিলাম সেই নির্ববাসন হইতে বাড়ির ভিতরে আসিয়া পৌছিলাম। অন্তঃপুরের বাধা ঘুচিয়া গেল, চাকরদের ঘরে আর আমাকে কুলাইল না। মায়ের ঘরের সভায় খুব একটা বড় আসন দখল করিলাম। তখন আমাদের বাড়ির যিনি কনিষ্ঠ বধু ছিলেন র্তাহার কাছ হইতে প্রচুর স্নেহ ও আদর পাইলাম । ছোটবেলায় মেয়েদের স্নেহযত্ন মানুষ ন যাচিয়াই পাইয় থাকে । আলো বাতাসে তাহার যেমন দরকার এই মেয়েদের আদরও তাহার পক্ষে তেমনি অবশ্যক। কিন্তু আলো বাতাস পাইতেছি বলিয়া কেহ বিশেষভাবে অনুভব করে না—মেয়েদের যত্নসম্বন্ধেও শিশুদের সেইরূপ কিছুই না ভাবাটাই স্বাভাবিক। বরঞ্চ শিশুরা এই প্রকার যত্নের জাল হইতে কাটিয়া বাহির হইয়া পড়িবার জন্যই ছটফট করে । কিন্তু যখনকার যেটি সহজপ্রাপ্য তখন সেটি না জুটিলে মানুষ কাঙাল হইয়া দাড়ায় । আমার সেই দশা ঘটিল। ছেলেবেলায় চাকরদের শাসনে বাহিরের ঘরে মানুষ হইতে হইতে হঠাৎ এক সময়ে মেয়েদের অপর্যাপ্ত স্নেহ পাইয়। সে জিনিষটাকে ভুলিয়া থাকিতে পারিতাম না। শিশুবয়সে অন্তঃপুর যখন আমাদের কাছে দূরে থাকিত তখন মনেমনে সেইখানেই আপনার কল্পলোক স্বজন করিয়াছিলাম । যে জায়গাটাকে ভাষায় বলিয়া থাকে অবরোধ সেইখানেই সকল বন্ধনের অবসান দেখিতাম । মনে করিতাম, ওখানে ইস্কুল নাই, মাষ্টার নাই, জোরকরিয়া কেহ কাহাকেও কিছুতে প্রবৃত্তকরায় ন—ওখানকার নিভৃত অবকাশ অত্যন্ত রহস্যময়—ওখানে কারে কাছে সমস্তদিনের সময়ের হিসাবনিকাশ করিতে হয় না, খেলাধূলা সমস্ত আপন ইচ্ছামত। বিশেষত দেখিতাম ছোড়দিদি আমাদের সঙ্গে সেই একই নীলকমল পণ্ডিতমহাশয়ের কাছে পড়িতেন কিন্তু পড়াকরিলেও তাহার সম্বন্ধে যেমন বিধান, না করিলেও সেইরূপ । দশটার