পাতা:জীবন-স্মৃতি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৩৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


প্রত্যাবর্তন | Գ(չ নৰ্ম্মালম্বুলে পড়িবার সময় যেদিন কোনোএকটি শিশুপাঠে প্রথম দেখা গেল সূৰ্য্য পৃথিবীরচেয়ে চৌদলক্ষগুণে বড় সেদিন মাতার সভায় এই সত্যটাকে প্রকাশকরিয়াছিলাম। ইহাতে প্রমাণহইয়াছিল যাহাকে দেখিতে ছোট সেও হয়ত নিতান্ত কম বড় নয় । আমাদের পাঠ্যব্যাকরণে কাব্যালঙ্কারংশে যে সকল কবিতা উদাহৃত ছিল তাহাই মুখস্থকরিয়া মাকে বিস্মিত করিতাম । তাহার একটা আজও মনে আছে । ওরে আমার মাছি । তাহা কি নম্রতা ধর, এসে হাত জোড় কর, কিন্তু কেন বারি কর তীক্ষ শুড়গাছি ! সম্প্রতি প্রক্টরের গ্রন্থহইতে গ্ৰহতারাসম্বন্ধে অল্প যে একটু জ্ঞানলাভ করিয়াছিলাম তাহাও সেই দক্ষিণবায়ুবাজিত সান্ধ্য-সমিতির মধ্যে বিবৃত করিতেলাগিলাম । আমার পিতার অনুচর কিশোরীচাটুর্য্যে এককালে পাচলির দলের গায়ক ছিল । সে আমাকে পাহাড়ে থাকিতে প্রায় বলিত—আহা দাদাজি, তোমাকে যদি পাইতাম তবে পচিলির দল এমন জমাইতেপারিতাম সে আর কি বলিব ! শুনিয়া আমার ভারি লোভহইত—পাচলির দলে ভিড়িয়া দেশদেশান্তরে গানগাহিয়া বেড়ানোট মহা একটা সৌভাগ্যবলিয়া বোধ হইত। সেই কিশোরীর কাছে অনেকগুলি পাচলির গান শিখিয়াছিলাম “ওরে ভাই জানকীরে দিয়ে এস বন,” “প্রাণত অন্ত হ’ল আমার কমল-আঁখি,” “রাঙা জবায় কি শোভা পায় পায়,” “কাতরে রেথ রাঙা পায়, মা অভয়ে,” “ভাব শ্রীকান্ত নরকান্তকারীরে একান্ত কৃতান্ত ভয়ান্ত হবে ভবে,” এই গানগুলিতে আমাদের আসর যেমন জমিয়াউঠিত এমন সূর্য্যের অগ্নিউচ্ছাস বা শনির চন্দ্রময়তার আলোচনায় হইত না । পৃথিবীমৃদ্ধ লোকে কৃত্তিবাসের বাংলা রামায়ণ পড়িয়া জীবন কাটায় আর আমি পিতার কাছে স্বয়ং মহর্ষি বাল্মীকির স্বরচিত অনুষ্টভ ছন্দের রামায়ণ পড়িয়াআসিয়াছি এই খবরটাতে মাকে সকলেরচেয়ে বেশী বিচলিতকরিতে