পাতা:জীবন-স্মৃতি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৩৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


q\。 জীবন-স্মৃতি । পারিয়াছিলাম। তিনি অত্যন্ত খুসিহইয়া বলিলেন “আচ্ছা, বাছ, সেই রামায়ণ আমাদের একটু পড়িয়া শোনা দেখি ।” হায়, একে ঋজুপাঠের সামান্য উদ্ধত অংশ, তাহার মধ্যে আবার আমার পড়া অতি অল্পই, তাহাও পড়িতেগিয়া দেখি মাঝেমাঝে অনেকখানি অংশ বিস্মৃতিবশত অস্পষ্ট হইয়াআসিয়াছে। কিন্তু যে মা পুত্রের বিদ্যাবুদ্ধির অসামান্তত অনুভবকরিয়া তানন্দসস্তোগকরিবার জন্য উৎসুক হইয়া বসিয়াছেন তাহাকে “ভুলিয়াগেছি” বলিবার মত শক্তি তামার ছিল না। সুতরাং ঋজুপাঠহইতে যেটুকু পড়িয়াগেলাম তাহার মধ্যে বাল্মীকির রচনা ও আমার ব্যাখ্যার মধ্যে অনেকট পরিমাণে অসামঞ্জস্য রহিয়াগেল । স্বৰ্গহইতে করুণহৃদয় মহর্ষি বাল্মীকি নিশ্চয়ই জননীর নিকট থ্যাতিপ্রত্যাশী অর্নর্বাচীন বালকের সেই অপরাধ সকৌতুকস্নেহস্তান্তে মার্জনাকরিয়াছেন কিন্তু দর্পহারা মধুসূদন আমাকে সম্পূর্ণ নিস্ক তিদিলেন না । মা মনে করিলেন আমার দ্বারা তাসাধ্যসাধন হইয়াছে, তাই তার সকলকে বিস্মিত করিয়াদিবার অভিপ্রায়ে তিনি কহিলেন “একবার দ্বিজেন্দকে শোন দেখি ।” তখন মনেমনে সমূহ বিপদ গণিয় প্রচুর আপত্তিকরিলাম। মা কোনোমতেই শুনিলেন না । বড়দাদাকে ডাকিয়াপাঠাইলেন । বড়দাদ আসিতেই কহিলেন ‘রবি কেমন বাল্মীকির রামায়ণ পড়িতেশিথিয়াছে একবার শোন না।” পড়িতেই হইল। দয়ালু মধুসূদন তাহার দর্পহারিত্বের একটু আভাসমাত্র দিয়া আমাকে এ মাত্র ছাড়িয়াদিলেন । বড়দাদা বোধ হয় কোনো একটা রচনায় নিযুক্তছিলেন—বাংলা ব্যাখা শুনিবার জন্য তিনি কোনো অ{গ্রহ প্রকাশ করিলেন না । গুটিকয়েক শ্লোক শুনিয়াই “বেশ হইয়াছে” বলিয় তিনি চলিয়াগেলেন । ইহার পর ইস্কুলে যাওয়া আমার পক্ষে পূর্বেরচেয়ে আরো অনেক কঠিন হইয়াউঠিল। নানা ছলকরিয় বেঙ্গল একাডেমিহইতে পলাইতে সুরু করিলাম । সেণ্টজেবিয়াসে আমাদের ভৰ্ত্তিকরিয়া দেওয়াহইল, সেখানেও কোনো ফলহইল না ।