পাতা:জীবন-স্মৃতি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৩৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ঘরের পড়া । b"> উঠিয়াছে এমন সময় আমি আস্তে আস্তে আঁচল হইতে চাবি খুলিয়া লইবার চেষ্টা করিলাম। কিন্তু এ কার্য্যে অঙ্গুলির দক্ষতা ছিল না, তাহার উপর আগ্রহেরও চাঞ্চল্য ছিল—ধরা পড়িয়া গেলাম। র্যাহার চাবি তিনি হাসিয়া পিঠ হইতে আঁচল নামাইয়। চাবি কোলের উপর রাখিয়া আবার খেলায় মন দিলেন । এখন আমি একটা উপায় ঠাওরাইলাম । আমার এই তাষ্ট্ৰীয়ার দোক্তা খাওয়া অভ্যাস ছিল । আমি কোথাও হইতে একটি পাত্রে পান দোক্তা সংগ্ৰহ করিয় তাহার সম্মুখে রাখিয় দিলাম। যেমনটি তাশা করিয়াছিলাম তাহাই ঘটিল। চিক ফেলিবার জন্য র্তাহাকে উঠিতে হইল ;–চাবিসমেত আঁচল কোল হইতে ভ্ৰষ্ট হইয়, নীচে পড়িল এবং অভ্যাসমত সেটা তখনি তুলিয়। তিনি পিঠের উপর ফেলিলেন । এবার চাবি চুরি গেল এবং চোর ধরা পড়িল না । বই পড়া হইল । তাহার পরে চাবি এবং বই স্বত্বাধিকারীর হাতে ফিরাইয়া দিয়া চৌর্য্যাপরাধের আইনের অধিকার হইতে আপনাকে রক্ষা করিলাম । আমার তা হ্লীয় ভৎসনা করিবার চেষ্টা করিলেন কিন্তু তাহা যথোচিত কঠোর হইল না ; তিনি মনে মনে হাসিতেছিলেন—আমারও সেই দশা । রাজেন্দ্রলাল মিত্র মহাশয় “বিবিধার্থ সংগ্রহ” বলিয়া একটি ছবিওয়ালা মাসিক পত্র বাহির করিতেন । তাহারি বাধানে একভাগ সেজদাদার আলমারির মধো ছিল। সেটি আমি সংগ্ৰহ করিয়াছিলাম । বারবার করিয়া সেই বইখান পড়িবার খুসি আজও আমার মনে পড়ে। সেই বড় চৌকা বইটাকে বুকে লইয়৷ আমাদের শোবার ঘরের তক্তাপোষের উপর চীৎ হইয়া পড়িয়া নহাল তিমি মৎস্যের বিবরণ, কাজির বিচারের কৌতুকজনক গল্প, কৃষ্ণকুমারীর উপন্যাস পড়িতে কত ছুটির দিনের মধ্যাহ্ন কাটিয়াছে। এই ধরণের কাগজ একখানিও এখন নাই কেন ? একদিকে বিজ্ঞান, তত্ত্বজ্ঞান, পুরাতত্ত্ব, অন্য দিকে প্রচুর গল্পকবিতা ও তুচ্ছ ভ্রমণ-কাহিনী দিয়া এখনকার কাগজ ভৰ্ত্তি করা হয় । সর্বসাধারণের দিব্য অারামে পড়িবার Y }