পাতা:জীবন-স্মৃতি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৪৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


জীবন-স্মৃতি। ون^b একটা নিতান্ত সামান্ত ঘটনায় আমার প্রতি গুণদাদার স্নেহকে আমি কিরূপ বিশেষভাবে উদ্বোধিত করিয়াছিলাম সে কথা আমার মনে পড়িতেছে । ইস্কুলে আমি কোনোদিন প্রাইজ পাই নাই, একবার কেবল সচ্চরিত্রের পুরস্কার বলিয়া একখানা “ছন্দোমাল|” বই পাইয়াছিলাম । আমাদের তিনজনের মধ্যে সত্যই পড়াশুনায় সেরা ছিল । সে কোনো একবার পরীক্ষায় ভালরূপ পাস করিয়া একটা প্রাইজ পাইয়াছিল। সেদিন ইস্কুল হইতে ফিরিয়৷ গাড়ি হইতে নামিয়াই দৌড়িয়া গুণদাদাকে খবর দিতে চলিলাম। তিনি বাগানে বসিয়াছিলেন। আমি দূর হইতেই চীৎকার করিয়া ঘোষণা করিলাম, গুণদাদা সত্য প্রাইজ পাইয়াছে । তিনি হাসিয়া আমাকে কাছে টানিয়া লইয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, তুমি প্রাইজ পাও নাই ? আমি কহিলাম, ন, আমি পাইনাই, সত্য পাইয়াছে। ইহাতে গুণদাদা ভারি খুসি হইলেন । আমি নিজে প্রাইজ না পাওয়াসত্ত্বেও সত্যর প্রাইজ পাওয়া লইয়া এত উৎসাহ করিতেছি ইহা র্তাহার কাছে বিশেষ একট সদগুণের পরিচয় বলিয়া মনে হইল। তিনি আমার সামনেই সে কথাটা অন্য লোকের কাছে বলিলেন । এই ব্যাপারের মধ্যে কিছুমাত্র গৌরবের কথা আছে তাহা আমার মনেও ছিল না—হঠাৎ র্তাহার কাছে প্রশংসা পাইয়া আমি বিস্মিত হইয়া গেলাম। এইরূপে আমি প্রাইজ না পাওয়ার প্রাইজ পাইলাম –কিন্তু সেটা ভাল হইল না । আমার ত মনে হয় ছেলেদের দান করা ভাল কিন্তু পুরস্কার দান করা ভাল নহে— ছেলের বাহিরের দিকে তাকাইবে, আপনার দিকে তাকাইবে না ইহাই তাহ দের পক্ষে স্বাস্থ্যকর । মধ্যাহ্নে আহারের পর গুণদাদ। এবাড়িতে কাছারি করিতে আসিতেন । কাছারি তাহাদের একটা ক্লাবের মতই ছিল—কাজের সঙ্গে হাস্যালাপের বড় বেশি বিচ্ছেদ ছিল না । গুণদাদা কাছারি ঘরে একটা কোঁচে হেলান দিয়া বসিতেন—সেই সুযোগে আমি অস্তে আস্তে র্তাহার কোলের কাছে আসিয়া ৰসিতাম। তিনি প্রায় আমাকে ভারতবর্ষের ইতিহাসের গল্প বলিতেন । ক্লাইভ ভারতবর্ষে ইংরাজরাজত্বের প্রতিষ্ঠা করিয়া অবশেষে দেশে ফিরিয়া গলায় ক্ষুর