পাতা:জীবন-স্মৃতি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৪৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বাড়ির আবহাওয়া । bبه س দিয়া আত্মহত্যা করিয়াছিলেন একথা তাহার কাছে শুনিয়া আমার ভারি আশ্চৰ্য্য লাগিয়াছিল। একদিকে ভারতবর্ষের নব ইতিহাস ত গড়িয়া উঠিল কিন্তু আর একদিকে মানুষের হৃদয়ের অন্ধকারের মধ্যে এ কি বেদনার রহস্য প্রচ্ছন্ন ছিল ! বাহিরে যখন এমন সফলতা অন্তরে তখন এত নিস্ফলতা কেমন করিয়া থাকে ! আমি সেদিন অনেক ভাবিয়াছিলাম । একএকদিন গুণদাদা আমার ভাবগতিক দেখিয় বেশ বুঝিতে পারিতেন যে আমার পকেটের মধ্যে একটা খাত লুকান আছে। একটুখানি প্রশ্রয় পাইবামাত্র খাতাটি তাহার আবরণ হইতে নির্লজ্জভাবে বাহির হইয়া আসিত। বল বাহুল্য তিনি খুব কঠোর সমালোচক ছিলেন না ; এমন কি, তাহার অভিমতগুলি বিজ্ঞাপনে ছাপাইলে কাজে লাগিতে পারিত। তবু বেশ মনে পড়ে এক একদিন কবিত্বের মধ্যে ছেলেমানুষীর মাত্রা এত অতিশয় বেশি থাকিত যে তিনি হা হা করিয়া হাসিয়া উঠিতেন। ভারতমাতাসম্বন্ধে কি একটা কবিতা লিখিয়াছিলাম। তাহার কোনো একটি ছত্রের প্রান্তে কথাটা ছিল “নিকটে”, ঐ শব্দটাকে দূরে পাঠাইবার সামর্থ্য ছিল না, অথচ কোনোমতেই তাহার সঙ্গত মিল খুজিয়া পাইলাম না। অগত্যা পরের ছত্রে “শকটে” শব্দটা যোজনা করিয়াছিলম । সে জায়গায় সহজে শকট আসিবার একেবারেই রাস্তা ছিল না—কিন্তু মিলের দাবী কোনো কৈফিয়তেই কর্ণপাত করে না ; কাজেই বিনা কারণেই সে জায়গায় আমাকে শকট উপস্থিত করিতে হইয়াছিল। গুণদাদার প্রবল হাস্তে, ঘোড়াহুদ্ধ শকট যে দুর্গম পথদিয়া আসিয়াছিল সেই পথদিয়াই কোথায় অন্তর্ধান করিল এপর্য্যন্ত তাহার আর কোনো খোজ পাওয়া যায় নাই । বড়দাদা তখন দক্ষিণের বারান্দায় বিছানা পাতিয়া সামনে একটি ছোট ডেস্ক লইয়া স্বপ্নপ্রয়াণ লিখিতেছিলেন । গুণদাদাও রোজ সকালে আমাদের সেই দক্ষিণের বারান্দায় আসিয়া বসিতেন। রসভোগে তাহার প্রচুর আনন্দ কবিত্ববিকাশের পক্ষে বসন্ত-বাতাসের মত কাজ করিত। বড়দাদা লিখিতেছেন আর শুনাইতেছেন আর র্তাহার ঘন ঘন উচ্চহাস্তে বারান্দা কঁাপিয়া উঠিতেছে । বসন্তে আমের কোল যেমন অকালে অজস্র ঝরিয়া পড়িয়া গাছেরতলা ছাইয়া