পাতা:জীবন-স্মৃতি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৫০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


Ե-Ե- জীবন-স্মৃতি । ফেলে তেমনি স্বপ্নপ্রয়াণের কত পরিত্যক্ত পত্র বাড়িময় ছড়াছড়ি যাইত তাহার ঠিকানা নাই। বড়দাদার কবিকল্পনার এত প্রচুর প্রাণশক্তি ছিল যে, তাহার যতটা আবশ্বক তাহার চেয়ে তিনি ফলাইতেন অনেক বেশি। এইজন্য তিনি বিস্তর লেখা ফেলিয়া দিতেন। সেইগুলি কুড়াইয়। রাখিলে বঙ্গসাহিত্যের একটি সাজি ভরিয়া তোলা যাইত । তখনকার এই কাব্যরসের ভোজে আড়াল-আবডাল হইতে আমরাও বঞ্চিত হইতাম না। এত ছড়াছড়ি যাইত যে, আমাদের মত প্রসাদ আমরাও পাইতাম । বড়দাদার লেখনীমুখে তখন ছন্দের ভাষার কল্পনার একেবারে কোটালের জোয়ার—বান ডাকিয় অসিত, নব নব আশ্রান্ত তরঙ্গের কলেচ্ছাসে কুল-উপকূল মুখরিত হইয় উঠিত। স্বপ্নপ্রয়াণের সব কি আমরা বুঝিতাম ? কিন্তু পূর্বেই বলিয়াছি লাভকরিবার জন্য পুরাপুরী বুঝিবার প্রয়োজন করে না । সমুদ্রের রত্ন পাইতাম কি ন জানি না, পাইলেও তাহার মূল্য বুঝিতাম ন কিন্তু মনের সাধ মিটাইয় ঢেউ খাই তাম—তাহারই আনন্দআঘাতে শিরা উপশিরায় জীবনস্রোত চঞ্চল হইয়| উঠিত ! তখনকার কথা যতই ভাবি আমার একটি কথা কেবলি মনে হয়, তখনকার দিনে মজলিশ বলিয়া একটা পদার্থ ছিল এখন সেটা নাই। পূর্বকার দিনে যে একটি নিবিড় সামাজিকত ছিল আমরা যেন বাল্যকালে তাহারই শেষ অস্তচ্ছটা দেখিয়ছি। পরস্পরের মেলামেশাট, তপন খুব ঘনিষ্ঠ ছিল সুতরাং মজলিশ তখনকার কালের একটা অত্যাবগুক সামগ্রী । র্যাঙ্গরা মজলিশি মানুষ ছিলেন তখন তাহদের বিশেষ অদির ছিল । এখন লোকের কাজের জন্য আসে, দেখাসাক্ষাৎ করিতে আসে, কিন্তু মজলিশ করিতে আসে না । লোকের সময় নাই এবং সে ঘনিষ্ঠত নাই। তখন বাড়িতে কত আনাগোনা দেখিতাম—হাসি ও গল্পে বারান্দ এবং বৈঠকখান মুখরিত হইয়া থাকিত। চারিদিকে সেই নানা লোককে জমাইয় তোল, হাসিগল্প জমাইয়া তোলা, এ একটা শক্তি—সেই শক্তিটাই কোথায় অন্তর্ধান করিয়াছে। মানুষ আছে তবু সেই সব বারান্দ। সেই সব বৈঠকখানা যেন জনশূন্ত । তখনকার