পাতা:জীবন-স্মৃতি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৫২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


సె e জীবন-স্মৃতি । মুখস্থ ছিল। সে গান স্বরেবেকুরে যেমন করিয়া পারেন একেবারে মরিয়া হইয়া গাহিয়া যাইতেন । সে সম্বন্ধে শ্রোতার আপত্তি করিলেও তাহার উৎসাহ অক্ষুণ্ণ থাকিত। সঙ্গে সঙ্গে তাল বাজাইবার সম্বন্ধেও অন্তরে বাহিরে র্তাহার কোনোপ্রকার বাধা ছিল না । টেবিল হউক বই হউক বৈধ অবৈধ যাহা কিছু হাতের কাছে পাইতেন তাহাকে অজস্র টপাটপ্ শব্দে ধ্বনিত করিয়া আসর গরম করিয়া তুলিতেন । আনন্দ উপভোগ করিবার শক্তি ইহার অসামান্য উদার ছিল । প্রাণ ভরিয়া রস গ্রহণ করিতে ইহার কোনো বাধা ছিল না এবং মন খুলিয়া গুণগান করিবার বেলায় ইনি কাপণ্য করিতে জানিতেন না । গান এবং খণ্ডকাব্য লিখিতেও ইহার ক্ষিপ্ৰত অসামান্য ছিল । অথচ নিজের এইসকল রচনা সম্বন্ধে তাহার লেশমাত্র মমত্ব ছিল না । কত ছিন্ন পত্রে তাহার কত পেন্সিলের লেখা ছড়াছড়ি যাইত সে দিকে খেয়ালও করিতেন না। রচনা সম্বন্ধে তাহার ক্ষমতার যেমন প্রাচুর্য্য তেমনি ঔদাসীন্য ছিল। “উদাসিনা” নামে ইহার একখানি কাব্য তখনকার বঙ্গদর্শনে যথেষ্ট প্রশংসা লাভ করিয়াছিল । ইহার অনেক গান লোককে গাহিতে শুনিয়াছি, কে যে তাহার রচয়িত তাহ কেহ জানে ও না । সাহিত্যভোগের অকৃত্রিম উৎসাহ সাহিত্যে পাণ্ডিত্যের চেয়ে অনেক বেশি দুর্লভ। অক্ষয় বাবুর সেই অপৰ্য্যাপ্ত উৎসাহ আমাদের সাহিত্যবোধশক্তিকে সচেতন করিয়! তুলিত । সাহিত্যে যেমন তার ঔদার্ঘ্য বন্ধুত্বেও তেমনি । অপরিচিত সভায় তিনি ডাঙায়তোলা মাছের মত ছিলেন, কিন্তু পরিচিতদের মধ্যে তিনি বয়স বা বিদ্যাবুদ্ধির কোনো বাছ-বিচার করিতেন না। বালকদের দলে তিনি বালক ছিলেন । দাদাদের সভা হইতে যখন অনেক রাত্রে তিনি বিদায় লইতেন তখন কতদিন আমি তাহাকে গ্রেফতার করিয়া আমাদের ইস্কুল ঘরে টানিয়া আনিয়াছি। সেখানেও রেড়ির তেলের মিইমিটে আলোতে আমাদের পড়িবার টেবিলের উপর বসিয়া সভা জমাইয়া তুলিতে র্তাহার কোনো কুণ্ঠ ছিল না । এমনি করিয় তাহার কাছে কত ইংরেজি কাব্যের উচ্ছসিত ব্যাখ্যা শুনিয়াছি,