পাতা:জীবন-স্মৃতি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৫৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


গীতচর্চা । సా డి তাহাকে লইয়া কত তর্ক বিতর্ক আলোচনা সমালোচনা করিয়াছি । নিজের লেখা তাহাকে কত শুনাইয়াছি এবং সে লেখার মধ্যে যদি সামান্য কিছু গুণপন থাকিত তবে তাহ লইয়া তাহার কাছে কত অপর্য্যাপ্ত প্রশংসালাভ করিয়াছি । গীতচর্চ । সাহিত্যের শিক্ষায় ভাবের চর্চায় বালাকাল হইতে জ্যোতিদাদা আমার প্রধান সহায় ছিলেন । তিনি নিজে উৎসাহী এবং অন্তকে উৎসাহ দিতে তাহার আনন্দ । তামি অবাধে তাহর সঙ্গে ভালের ও জ্ঞানের আলোচনায় প্রবৃত্ত হইতাম—তিনি বালক বলিয় তা কে তালজ্ঞা করিতেন না । তিনি আমাকে খুব একটা বড় রকমের স্বাধীনত দিয়াছিলেন ; তাহার সংস্রবে আমার ভিতরকার সঙ্কোচ লুচিয় গিয়াছিল। এইরূপ স্বাধীনতা আমাকে আর কেহ দিতে সাহস করিতে পারিত ন!—সে জন্য হয়ত কেহ র্তাহাকে নিন্দাও করিয়াছে । কিন্তু প্রগর গ্রীষ্মের পরে বর্ষার যেমন প্রয়োজন আমার পক্ষে অশৈশব বাপানিষেধের পরে এই স্বাধীনতা তেমনি অত্যাবশ্যক ছিল। সে সময়ে এই বন্ধনমুক্তি ন ঘটিলে চিরজীবন একটা পঙ্গুত থাকিয়া যাইত । প্রবল পক্ষেরা সর্বদাই স্বাধীনতার অপব্যবহার লইয়া খোটা দিয়া স্বাধীনতাকে খর্বর্ব করিতে চেষ্টা করিয়া থাকে কিন্তু স্বাধীনতার অপব্যয় করিবার যদি অধিকার না থাকে তবে তাহাকে স্বাধীনতাই বলা যায় না। অপব্যয়ের দ্বারাই সদ্ব্যয়ের যে শিক্ষা হয় তাহাই গাটি শিক্ষা । অন্তত আমি একথা জোর করিয়া বলিতে পারি—স্বাধীনতার দ্বারা যেটুকু উৎপাত ঘটিয়াছে তাহাতে আমাকে উৎপাতনিবারণের পন্থাতেই পৌছাইয়া দিয়াছে। শাসনের দ্বারা পীড়নের দ্বারা কান-মলা এবং কানে মন্ত্র দেওয়ার দ্বারা আমাকে যাহা কিছু দেওয়া হইয়াছে তাহা অামি কিছুই গ্রহণ করি নাই। যতক্ষণ আমি আপনার মধ্যে আপনি ছাড়া ন পাইয়াছি ততক্ষণ নিষ্ফল বেদন ছাড়া আর কিছুই আমি লাভ করিতে পারি নাই। জ্যোতিদাদাই সম্পূর্ণ নিঃসঙ্কোচে সমস্ত