পাতা:জীবন-স্মৃতি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৫৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সাহিত্যের সঙ্গী। సిలి হইতে তর্জমা করিতে দিলেন । সেটা আমার মন্দ লাগিল না । তাহার পরে শিক্ষার আয়োজন আরো অনেকটা ব্যাপক দেখিয় তাহার পক্ষে আমি সম্পূর্ণ দুরধিগম্য হইয়া উঠিলাম। বাড়ির লোকেরা আমার হাল ছাড়িয়া দিলেন। কোনোদিন আমার কিছু হইবে এমন আশা, না আমার, না আর কাহারো মনে রহিল। কাজেই কোনে কিছুর ভরসা না রাখিয় আপন মনে কেবল কবিতার খাতা ভরাইতে লাগিলাম। সে লেখাও তেমনি । মনের মধ্যে আর কিছুই নাই, কেবল তপ্ত বাষ্প আছে—সেই বাষ্পভরা বুদ্ধ দরাশি, সেই আবেগের ফেনিলতা অলস কল্পনার আবর্বের টানে পাক গাইয়া নিরর্থক ভাবে ঘুরিতে লাগিল। তাহার মধ্যে কোনো রূপের স্মৃষ্টি নাই কেবল গতির চাঞ্চল্য আছে। কেবল টগ্‌বগ করিয়া ফুটিয়া ফুটিয়া ওঠা, ফাটিয়া ফাটিয়া পড়া। তাহার মধ্যে বস্তু যাহা কিছু ছিল তাহা আমার নহে, সে অন্য কবিদের অনুকরণ ; উহার মধ্যে আমার যেটুকু, সে কেবল একটা অশান্তি, ভিতরকার একটা দুরন্ত আক্ষেপ । যখন শক্তির পরিণতি হয় নাই অথচ বেগ জন্মিয়াছে তখন সে একটা ভারি অন্ধ আন্দোলনের অবস্থা । সাহিত্যে বৌঠাকুরাণীর প্রবল অনুরাগ ছিল । বাংলা বই তিনি যে পড়িতেন কেবল সময় কাটাইবার জন্য, তাহা নহে—তাহ যথার্থই তিনি সমস্ত মন দিয়া উপভোগ করিতেন । র্তাহার সাহিত্যচর্চায় আমি অংশী ছিলাম । স্বপ্নপ্রয়াণ কাব্যের উপরে তাহার গভীর শ্রদ্ধা ও প্রীতি ছিল । আমারও এই কাব্য খুব ভাললাগিত। বিশেষত আমরা এই কাব্যের রচনা ও আলোচনার হাওয়ার মধ্যেই ছিলাম তাই ইহার সৌন্দৰ্য্য সহজেই আমার হৃদয়ের তস্তুতে তস্তুতে জড়িত হইয়া গিয়াছিল। কিন্তু এই কাব্য আমার অনুকরণের অতীত ছিল । কখনো মনেও হয় নাই এই রকমের কিছু একটা আমি লিখিয়া তুলিব। স্বপ্নপ্রয়াণ যেন একটা রূপকের অপরূপ রাজপ্রাসাদ । তাহার কত রকমের কক্ষ গবাক্ষ চিত্র, মূৰ্ত্তি ও কারুনৈপুণ্য ! তাহার মহলগুলিও বিচিত্র।