পাতা:জীবন-স্মৃতি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৫৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ভানুসিংহের কবিতা । ›ማ কিন্তু আমার সংশয়ে ৰন্ধুর নিষ্ঠ টলিল না, তাহার প্রতিমাপূজা চলিতে লাগিল । আমি তখন “ভুবনমোহিনীপ্রতিভা” “দুঃখসঙ্গিনী” ও “অবসরসরোজিনী।” বই তিনখানি অবলম্বন করিয়া জ্ঞানাঙ্কুরে এক সমালোচনা লিখিলাম । খুব ঘটা করিয়া লিথিয়াছিলাম। খণ্ডকাব্যেরই বা লক্ষণ কি, গীতিকাব্যেরই বা লক্ষণ কি, তাহ অপূর্ব বিচক্ষণতার সহিত আলোচনা করিয়াছিলাম। সুবিধার কথা এই ছিল ছাপার অক্ষর সবগুলিই সমান নিৰ্ব্বিকার, তাহার মুখ দেখিয়া কিছুমাত্র চিনিবার জো নাই, লেখকটা কেমন, তাহার বিদ্যাবুদ্ধির দৌড় কত। আমার বন্ধু অত্যন্ত উত্তেজিত হইয়া আসিয়া কহিলেন একজন বি, এ, তোমার এই লেখার জবাব লিখিতেছেন । বি, এ, শুনিয়া আমার আর বাক্যশ্বৰ্ত্তি হইল না। বি, এ, শিশুকালে সত্য যেদিন বারান্দা হইতে পুলিসম্যানকে ডাকিয়াছিল সে দিন আমার যে দশা, আজও আমার সেইরূপ । আমি চোখের সামনে স্পষ্ট দেখিতে লাগিলাম খণ্ডকাব্য গীতিকাব্য সম্বন্ধে আমি যে কীৰ্ত্তিস্তস্তু খাড়া করিয়া তুলিয়াছি বড় বড় কোটেশনের নিৰ্ম্মম আঘাতে তাহ সমস্ত ধূলিসাৎ হইয়াছে এবং পাঠকসমাজে আমার মুখ দেখাইবার পথ একেবারে বন্ধ । “কুক্ষণে জনম তোর রে সমালোচনা ! ' উদ্বেগে দিনের পর দিন কাটিতে লাগিল। কিন্তু বি, এ, সমালোচক বাল্যকালের পুলিসম্যানটির মতই দেখা দিলেন না। ভানুসিংহের কবিতা । পূর্বেই লিখিয়াছি খ্ৰীযুক্ত অক্ষয়চন্দ্র সরকার ও সারদাচরণ মিত্র মহাশয় কর্তৃক সঙ্কলিত প্রাচীন কাব্যসংগ্রহ আমি বিশেষ আগ্রহের সহিত পড়িতাম । তাহার মৈথিলীমিশ্রিত ভাষা আমার পক্ষে দুৰ্ব্বোধ ছিল। কিন্তু সেইজন্যই এত অধ্যবসায়ের সঙ্গে আমি তাহার মধ্যে প্রবেশচেষ্টা করিয়াছিলাম । গাছের বীজের মধ্যে যে অঙ্কুর প্রচ্ছন্ন ও মাটির নীচে যে রহস্য অনাবিষ্কৃত তাহার YV)