পাতা:জীবন-স্মৃতি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৬০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


సిy জীবন-স্মৃতি। প্রতি যেমন একটি একান্ত কৌতুহল বোধ করিতাম প্রাচীন পদকর্তাদের রচনাসম্বন্ধেও আমার ঠিক সেই ভাবটা ছিল । আবরণ মোচন করিতে করিতে একটি অপরিচিত ভাণ্ডার হইতে একটি আধটি কাব্যরত্ব চোখে পড়িতে থাকিবে এই আশাতেই আমাকে উৎসাহিত করিয়া তুলিয়াছিল। এই রহস্তের মধ্যে তলাইয়৷ দুৰ্গম অন্ধকার হইতে রত্ন তুলিয়া আনিবার চেষ্টায় যখন আছি তখন নিজেকেও একবার এইরূপ রহস্যআবরণে আবৃত করিয়া প্রকাশ করিবার একটা ইচ্ছা আমাকে পাইয় বসিয়াছিল। ইতিপূর্বে অক্ষয়বাবুর কাছে ইংরাজ বালককবি চ্যাটর্টনের বিবরণ শুনিয়াছিলাম। র্তাহার কাব্য যে কিরূপ তাহ জানিতাম না—বোধ করি অক্ষয়বাবুও বিশেষ কিছু জানিতেন না, এবং জানিলে বোধহয় রসভঙ্গ হইবার সম্পূর্ণ সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু তাহার গল্পটার মধ্যে যে একটা নাটকিয়ানা ছিল সে আমার কল্পনাকে খুব সরগরম করিয়া তুলিয়াছিল। চ্যাটার্টন প্রাচীন কবিদের এমন নকল করিয়া কবিতা লিথিয়াছিলেন যে অনেকেই তাহ ধরিতে পারে নাই । অবশেষে ষোল বছর বয়সে এই হতভাগ্য বালককবি আত্মহত্যা করিয়া মরিয়াছিলেন। আপাতত ঐ আত্মহত্যার অনাবশ্বক অংশটুকু হাতে রাখিয়া কোমর বাধিয়া দ্বিতীয় চ্যাটার্টন হইবার চেষ্টায় প্রবৃত্ত হইলাম । একদিন মধ্যাহ্নে খুব মেঘ করিয়াছে। সেই মেঘলাদিনের ছায়াঘন অবকাশের আনন্দে বাড়ির ভিতরের এক ঘরে খাটের উপর উপুড় হইয় পড়িয়া একটা শ্লেট লইয়া লিখিলাম “গহন কুস্থমকুঞ্জ মাঝে।” লিখিয়া ভারি খুসি হইলাম— তখনি এমন লোককে পড়িয়া শুনাইলাম, বুঝিতে পারিবার আশঙ্কামাত্র যাহাকে স্পর্শ করিতে পারে না । সুতরাং সে গম্ভীরভাবে মাথা নাড়িয়া কহিল “বেশত, এ ত বেশ হইয়াছে।” পূৰ্ব্বলিখিত আমার বন্ধুটিকে একদিন বলিলাম—সমাজের লাইব্রেরি খুজিতে খুজিতে বহুকালের একটি জীর্ণ পুথি পাওয়া গিয়াছে, তাহা হইতে ভানুসিংহ নামক কোনো প্রাচীন কবির পদ কাপি করিয়া আনিয়াছি । এই বলিয় তাহাকে কবিতাগুলি শুনাইলাম। শুনিয়া তিনি বিষম বিচলিত হইয়৷