পাতা:জীবন-স্মৃতি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৬৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


স্বাদেশিকত । సినీ উঠিলেন। কহিলেন, “এ পুথি আমার নিতান্তই চাই। এমন কবিতা বিদ্যাপতি চণ্ডীদাসের হাত দিয়াও বাহির হইতে পারিত না । আমি প্রাচীন কাব্যসংগ্রহ ছাপিবার জন্য ইহা অক্ষয়বাবুকে দিব।” তখন আমার খাত দেখাইয়৷ স্পষ্ট প্রমাণ করিয়া দিলাম এ লেখা বিদ্যাপতি চণ্ডীদাসের হাত দিয়া নিশ্চয় বাহির হইতে পারে না, কারণ, এ আমার লেখা । বন্ধু গম্ভীর হইয় কহিলেন, “নিতান্ত মন্দ হয় নাই।” ভানুসিংহ যখন ভারতীতে বাহির হইতেছিল ডাক্তার নিশিকান্ত চট্টোপাধ্যায় মহাশয় তখন জৰ্ম্মনিতে ছিলেন। তিনি যুরোপীয় সাহিত্যের সহিত তুলনা করিয়া আমাদের দেশের গীতিকাব্যসম্বন্ধে একখানি চটিবই লিখিয়াছিলেন। তাহাতে ভানুসিংহকে তিনি প্রাচীন পদকৰ্ত্তারূপে যে প্রচুর সম্মান দিয়াছিলেন কোনো আধুনিক কবির ভাগ্যে তাহ সহজে জোটে না । এই গ্রন্থখানি লিখিয়া তিনি ডাক্তার উপাধি লাভ করিয়াছিলেন । ভানুসিংহ যিনিই হেীন তাহার লেখা যদি বৰ্ত্তমান আমার হাতে পড়িত তবে আমি নিশ্চয়ই ঠকিতাম না এ কথা আমি জোর করিয়া বলিতে পারি। উহার ভাষা প্রাচীন পদকৰ্ত্তার বলিয়| চালাইয় দেওয়া অসম্ভব ছিল না । কারণ, এ ভাষা তাহদের মাতৃ ভাষা নহে, ইহা একটা কৃত্রিম ভাষা ; ভিন্ন ভিন্ন কবির হাতে ইহার কিছু ন কিছু ভিন্নত ঘটিয়াছে। কিন্তু র্তাহাদের ভাবের মধ্যে কৃত্রিমত ছিল না। ভানুসিংহের কবিতা একটু বাজাইয়া বা কসিয়া দেখিলেই তাহার মেকি বাহির হইয় পড়ে। তাহাতে আমাদের দিশি নহবতের প্রাণগলানে ঢাল স্বর নাই, তাহ আজকালকার সস্তা আগিনের বিলাতী টুংটাংমাত্র। স্বাদেশিকত । বাহির হইতে দেখিলে আমাদের পরিবারে অনেক বিদেশী প্রথার চলন ছিল কিন্তু আমাদের পরিবারের হৃদয়ের মধ্যে একটা স্বদেশাভিমান স্থির