পাতা:জীবন-স্মৃতি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৭১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


স্বাদেশিকত । X o (o ছেলেবেলায় রাজনারায়ণ বাবুর সঙ্গে যখন তামাদের পরিচয় ছিল তখন সকল দিক হইতে তাহাকে বুঝিবার শক্তি আমাদের ছিল না। র্তাহার মধ্যে নানা বৈপরীত্যের সমাবেশ ঘটিয়াছিল। তখনই তাহার চুল দাড়ি প্রায় সম্পূর্ণ পাকিয়াছে কিন্তু তামাদের দলের মধ্যে বয়সে সকলের চেয়ে যে ব্যক্তি ছোট তাহার সঙ্গেও তাহার বয়সের কোনো অনৈক্য ছিল না । তাহার বাহিরের প্রবীণত শুভ্ৰ মোড়কটির মত হইয় তাহার তা স্তরের নবীনতাকে চিরদিন তাজ করিয়া রাখিয়া দিয়াছিল। এমন কি, প্রচুর পণ্ডিত্যেও তাহার কোনো ক্ষতি করিতে পারে নাই, তিনি একেবারেই সহজ মানুষটির মতই ছিলেন । জীবনের শেষ পর্য্যন্ত অজস্র হাস্তোচ্ছাস কোনো বাধাই মানিল না—না বয়সের গাম্ভীৰ্য্য, না অস্বাস্থ্য, ন সংসারের দুঃখ কষ্ট, ন মেধয় ন বহুনা শ্রতেন, কিছুতেই তাহার হাসির বেগকে ঠেকাইয়। রাখিতে পারে নাই । একদিকে তিনি আপনার জীবন এবং সংসারটিকে ঈশ্বরের কাছে সম্পূর্ণ নিবেদন করিয়া দিয়াছিলেন, আরএকদিকে দেশের উন্নতিসাধন করিবার জন্য তিনি সর্বদাই কতরকম সাধ্য ও অসাধ্য প্ল্যান্‌ করিতেন তাহার আর অন্ত নাই। রিচার্ডসনের তিনি প্রিয় ছাত্র, ইংরাজি বিদ্যাতেই বাল্যকাল হইতে তিনি মানুষ কিন্তু তবু অনভ্যাসের সমস্ত বাধা ঠেলিয়া ফেলিয়া বাংলাভাষা ও সাহিত্যের মধ্যে পূর্ণ উৎসাহ ও শ্রদ্ধার বেগে তিনি প্রবেশ করিয়াছিলেন। এদিকে তিনি মাটির মানুষ কিন্তু তেজে একেবারে পরিপূর্ণ ছিলেন। দেশের প্রতি র্তাহার যে প্রবল অনুরাগ, সে তাহার সেই তেজের জিনিষ । দেশের সমস্ত খর্ববতা দীনতা অপমানকে তিনি দগ্ধ করিয়া ফেলিতে চাহিতেন । র্তাহার দুই চক্ষু জ্বলিতে থাকিত, তাহার হৃদয় দীপ্ত হইয়া উঠিত, উৎসাহের সঙ্গে হাত নাড়িয়া আমাদের সঙ্গে মিলিয়া তিনি গান ধরিতেন—গলায় সুর লাগুক্ আর না লাগুক্ সে তিনি খেয়ালই করিতেন না,— একসূত্রে বাধিয়াছি সহস্রটি মন, এক কার্য্যে সঁপিয়াছি সহস্র জীবন । এই ভগবস্তুক্ত চিরবালকটির তেজঃপ্রদীপ্ত হাস্যমধুর জীবন, রোগে শোকে Y 8