পাতা:জীবন-স্মৃতি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৭৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ভারতী । o সম্পাদকচক্রের বাহিরে ছিলাম না। ইতিপূর্বেই আমি অল্প বয়সের স্পৰ্দ্ধার বেগে মেঘনাদবধের একটি তীব্র সমালোচনা লিখিয়াছিলাম। কাচা আমের রসটা অমরস—কাচা সমালোচনাও গালিগালাজ। অন্য ক্ষমতা যখন কম থাকে তখন খোচা দিবার ক্ষমতাটা খুব তীক্ষ হইয় উঠে । আমিও এই অমর কাব্যের উপর নখরাঘাত করিয়া নিজেকে অমর করিয়া তুলিবার সর্বাপেক্ষ সুলভ উপায় অন্বেষণ করিতেছিলাম। এই দাস্তিক সমালোচনাটা দিয়া আমি ভারতীতে প্রথম লেখা আরম্ভ করিলাম । এই প্রথম বৎসরের ভারতীতেই “কবিকাহিনী” নামক একটি কাব্য বাহির করিয়াছিলাম । যে বয়সে লেখক জগতের আর সমস্তকে তেমন করিয়া দেখে নাই কেবল নিজের অপরিস্ফুটতার ছায়ামূৰ্ত্তিটাকেই খুব বড় করিয়৷ দেখিতেছে ইহা সেই বয়সের লেখা ; সেইজন্য ইহার নায়ক কবি । সে কবি যে লেখকের সন্ত তাহা নহে, লেখক আপনাকে যাহা বলিয়া মনে করিতে ও ঘোষণা করিতে ইচ্ছা করে ইহা তাহাই । ঠিক ইচ্ছা করে বলিলে যাহ। বুঝায় তাহাও নহে—যাহা ইচ্ছা করা উচিত অর্থাৎ যেরূপটি হইলে অন্য দশজনে মাথা নাড়িয়া বলিবে, ই কবি বটে, ইহা সেই জিনিষটি। ইহার মধ্যে বিশ্বপ্রেমের ঘটা খুব আছে—তরুণ কবির পক্ষে এইটি বড় উপাদেয়, কারণ, ইহা শুনিতে খুব বড় এবং বলিতে খুব সহজ । নিজের মনের মধ্যে সত্য যখন জাগ্রত হয় নাই, পরের মুখের কথাই যখন প্রধান সম্বল তখন রচনার মধ্যে সরলতা ও সংযম রক্ষণ করা সম্ভব নহে। তখন, যাহা স্বতই বৃহৎ, তাহাকে বাহিরের দিক হইতে বৃহৎ করিয়া তুলিবার দুশ্চেষ্টায় তাহাকে বিকৃত ও হাস্যকর করিয়া তোলা অনিবাৰ্য্য। এই বাল্যরচনাগুলি পাঠ করিবার সময় যখন সঙ্কোচ অনুভব করি তখন মনে আশঙ্কা হয় যে, বড় বয়সের লেখার মধ্যেও নিশ্চয় এইরূপ অতিপ্রয়াসের বিকৃতি ও অসত্যত অপেক্ষাকৃত প্রচ্ছন্নভাবে অনেক রহিয়া গেছে! বড় কথাকে খুব বড় গলায় বলিতে গিয়া নিঃসন্দেহই অনেক সময়ে তাহার শান্তি ও গাম্ভীৰ্য্য নষ্ট করিয়াছি । নিশ্চয়ই অনেক সময়ে বলিবার বিষয়টাকে ছাপাইয়া নিজের কণ্ঠটাই